
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি গ্রামে তারাবী নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এবং এই ঘটনায় নারী সহ তিন জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।শুক্রবার ৭ই মার্চ রাত ৮.১৫ মিনটের দিকে উপজেলার চৌকিবাড়ি গ্রামের চৌকিবাড়ি জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ধুনট থানাধীন চৌকিবাড়ী পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ এর ইমাম ও নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ০৭/০৩/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০৮.১৫ ঘটিকার সময় এশার নামাজের শেষে তারাবির নামাজ শুরু করার সময় এই ঘটনা ঘটে।বিবাদীগনরা পরিকল্পিত ভাবে বাঁশের লাঠি, লোহার রড, ধারালো দা, বটি, হাসুয়া ইত্যাদি বে-আইনী অস্ত্র শস্ত্র লইয়া বে-আইনী জনতা দলবদ্ধ হইয়া চৌকিবাড়ী পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ এর ভিতরে প্রবেশ করে। বিবাদী সিদ্দিক হোসেন (৫৫), এর হুকুমে বিবাদী ওবাইদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর পাঞ্জাবী ধরে টান দিয়ে তাকে এলোপাথারি ভাবে কিল ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা ও জখম করেছেন।
এ ব্যাপারে মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ ১৩ জনকে বিবাদী করে ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন,২ নং বিবাদী ওবায়দুল ইসলাম আমার উপর আক্রমণ করলে আমার ছোট ভাই মাওঃ তোফায়েল আহম্মেদ ২ নং বিবাদী ওবায়দুল কে ঠেকাতে গেলে তখন বিবাদী আশরাফুল ও ইবাদত আলী তোফায়েল আহম্মেদ কে এলোপাথারি ভাবে কিল ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করে।আমার ছোট ভাই দৌড় দিয়ে মসজিদ থেকে বাহিরে যায়।আমাদের ডাক চিৎকারের এগিয়ে আসলে ছোট বোন রাজিয়া খাতুন কে বিবাদী আব্দুল লতিফ (৩৭) এর হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে। উক্ত আঘাতটি মাথার বাম পার্শ্বে লেগে গুরুতর আহত হয়।তারপর চিকিৎসার জন্য অজ্ঞাতনামা ভ্যান যোগে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার ছোট বোনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
তিনি আরোও জানান, আমি ও আমার ছোট বোন হাসপাতালে অবস্থান করাকালে উপরোক্ত বিবাদীগণ আমার নিজ মালিকানাধীন মুরগির খামার ভাংচুর করে। প্রায় ৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকা ক্ষতি সাধন করে। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে বিবাদীগণ প্রকাশ্যে আমার মুরগির খামারে আগুন জ্বালিয়ে দিবে বলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌকিবাড়ি জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত আছেন, মাওঃ সোহাগ হুজুর।গত শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পূর্বে মাওঃ তোফায়েল আহম্মেদ মাওঃ সোহাগ এর থেকে অনুমতি নিয়ে বয়ান ও এশার নামাজ আদায় করেন। তারাবী নামাজ আদায় করার জন্য দাঁড়ায় মাওঃ তোফায়েল আহম্মেদ। কিন্ত তার পিছনে কিছু মুসুল্লি নামাজ পড়বে না বলে আপত্তি জানায় সেখান থেকেই মারামারি শুরু হয়।
এবিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল আলম বলেন,পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





























