
নাহিদ ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো: মাদকাসক্তিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের চলমান নিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন অধিদপ্তরের পরিচালক (নিরোধ শিক্ষা) মাজহারুল ইসলাম। এ পরিদর্শনকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গতকাল বুধবার (২৬ নভেম্বর) পরিদর্শনকালে পরিচালক (নিরোধ শিক্ষা) বগুড়া জেলার আওতাধীন মাদকবিরোধী অভিযান, নিরোধমূলক শিক্ষা কার্যক্রম, স্কুল–কলেজ ও মাদ্রাসাভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি, কমিউনিটি অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম, জনসভা, উঠান বৈঠক ও কাউন্সেলিং কার্যক্রমের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তিনি মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা শুনে কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় মাজহারুল ইসলাম বলেন,“মাদক দমন শুধু অভিযান বা গ্রেফতারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মাদক সমস্যার মূল উৎপত্তি হচ্ছে অজ্ঞতা, বেকারত্ব এবং সামাজিক অবক্ষয়। এসব জায়গায় আঘাত হানতে হলে নিরোধমূলক শিক্ষার বিকল্প নেই। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে শুরু থেকেই মাদকের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জানাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,“পরিবার হচ্ছে সমাজের প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র। যদি পরিবার সচেতন হয়, সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখে এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা করে, তাহলে একজন তরুণ মাদকের পথে পা দেওয়ার আগেই রুখে দেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে ডিএনসির নিরোধ শিক্ষা কার্যক্রমকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।”
নিরোধ শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন,“আমাদের লক্ষ্য কেবল বর্তমান মাদকাসক্তদের উদ্ধার করা নয়, বরং এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা—যারা কখনোই মাদকের দিকে ঝুঁকবে না। তাই কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃসংযোজন কার্যক্রমকে একসঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
ডিএনসি বগুড়ার কর্মকর্তাদের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন,“বগুড়া জেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠপর্যায়ে তাদের এই তৎপরতা মাদকবিরোধী লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে। ভবিষ্যতে নিরোধমূলক শিক্ষা কার্যক্রমে বগুড়া একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা করি।”
পরিদর্শন শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করে উদ্ভাবনী সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়া অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।





























