
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এতে জেলা নির্বাচন অফিসার মো. আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান রেনু ও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফরোজা খাতুন। এছাড়াও সদর উপজেলা সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, অফিস সহকারী সোহরাব হোসেন, মনির হোসেনসহ জেলা ও সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা জানান, নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা এনআইডি সেবা সরানোর যে আলোচনা চলছে, তা সংবিধানসম্মত নয় এবং এতে বিভিন্ন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তারা বলেন, ২০০৭-০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ও সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়। বর্তমানে এই ডাটাবেজে প্রায় ১২.৫০ কোটি নাগরিকের তথ্য রয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত, যা অন্য সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এনআইডি অন্য সংস্থার অধীনে গেলে ডাটাবেজ ম্যানিপুলেশন ও তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি বাড়বে। নতুন অবকাঠামো ও জনবল তৈরিতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে। ভোটার তালিকা থেকে আলাদা হলে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বক্তারা বলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ২০২৩ সালের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন বাতিল করে এনআইডি নির্বাচন কমিশনের অধীনে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকাই সংবিধানসম্মত, নিরাপদ ও কার্যকর। তারা সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান, যাতে ভোটার তালিকা ও এনআইডি সেবা যথাযথভাবে পরিচালিত হয় এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকে।





























