
মোহাইমিনুল ইসলাম (উলিপুর) কুড়িগ্রাম :
গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে ব্যানার, পোস্টার, সাইনবোর্ড ও বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন টাঙানো বন্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবান্ধব সামাজিক সংগঠন ‘অরণ্য’।
বুধবার (২৫ নভেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি আঃছোবাহান জুয়েল কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন দাখিল করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সড়কের পাশের অসংখ্য গাছে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়াভাবে পেরেক ঠুকে পোস্টার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সামগ্রী ঝুলানো হচ্ছে। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, কাণ্ডে গভীর ক্ষত তৈরি হচ্ছে এবং জীবাণুর সংক্রমণে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
গাছে পেরেক ঠুকে ক্ষতিসাধন করা বাংলাদেশে ফৌজদারি অপরাধ। এ বিষয়ে তিনটি আইনে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে—বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন যেকোনো কাজ দণ্ডনীয় অপরাধ। গাছের কাণ্ডে পেরেক ঠোকা পরিবেশগত ক্ষতি হিসেবে গণ্য।
বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত ২০১৯)সরকারি রাস্তার পাশের বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত করা ফৌজদারি অপরাধ।
(বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭)জীববৈচিত্র্য বা উদ্ভিদের ক্ষতি সৃষ্টিকারী যেকোনো কাজ শাস্তিযোগ্য।
পরিবেশবিদদের মতে, গাছের গায়ে পেরেক ঢোকার ফলে আক্রান্ত স্থানে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও পোকামাকড়ের সংক্রমণ হয়, যা গাছকে দ্রুত দুর্বল করে দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে গাছ মারা যায়।
‘অরণ্য’র সভাপতি আঃছোবাহান জুয়েল বলেন—
গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন টাঙানো পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম কারণ। আইনে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর তেমন প্রয়োগ দেখা যায় না। আমরা চাই অবিলম্বে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হোক।
তিনি আরও বলেন,প্রশাসনের নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এই ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে এবং গাছ রক্ষা পাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন,
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক স্যার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করবেন। তখন নির্বাচনী আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, আমরা তা গ্রহণ করব।
গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন টাঙানো বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং, অভিযান পরিচালনা, পেরেক অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এই ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ‘অরণ্য’ সংগঠনকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই। অরণ্যের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করেই আমরা এসব অভিযান পরিচালনা করব।





























