
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থী অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দিলেও তা এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত না করে অপহৃতা পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানী অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অপহরণের ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও অপহৃরিতাকে উদ্ধার করেনি পুলিশ। ঘটনাটি উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের। নিরুপায় হয়ে অপহারিতার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গঙ্গাচড়ার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অপহৃরিতার দাদী ও নোহালী ইউনিয়নের সাপমারী এলাকার জরিনা বেগম। এ সময় অপহৃরিতার চাচা উপস্থিত থেকে তাদেরকে পুলিশের টালবাহনা করে হয়রানীর কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে অপহৃরিতার দাদী জরিনা বেগম বলেন, বড়াইবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় হতে সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে আমার ১৬ বছর বয়সী নাবালিকা নাতনী। তার বাবা ও মা ঢাকায় থাকায় নাতনী আমার কাছেই থেকে লেখাপড়া করছে। আমার নাতনী স্কুল যাওয়া আসার পথে একই ইউনিয়নের বাগডহরা হিন্দুপাড়ার বেলাল মিয়ার পুত্র খোকন মিয়া প্রায় অশ্লীল কথাবার্তা বলি উত্যক্ত করে আসতো। আমি নাতনীর কাছে বিষয়টি জানার পর খোকনের পরিবারকে অবগত করে তাকে সতর্ক করতে বলি। এতে খোকন ক্ষীপ্ত হয়ে সে নানাভাবে সুযোগ বুঝে আমার নাতনীর ক্ষতি করবে প্রচার চালায়। গত ১৩ মার্চ ব্যবহারিক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আমার নাতনী স্কুলের পথে রওয়ানা দিলে কুর্শারঘাট ব্রিজের কাছে যাওয়া মাত্র পুর্বপরিকল্পনামতো আমার নাতনীকে অজ্ঞাতনামা সিএনজিতে টানাহেঁচড়া করে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। আমার নাতনীকে টানাহেঁচড়া করে সিএনজি তুলে নেওয়ার বিষয়টি অনেকে দেখে আমাকে জানাইলে আমি পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজি করে না পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলীকে জানাই। চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় থানায় এজাহার দাখিল করি। এজাহার দাখিলের সময় ওসি আমার সাথে ভাল আচরণ করে নাই। তারপরও গরিব মানুষ হিসেবে হাতজোড় করে ওসির কাছে নাতনীকে উদ্ধার করে চাই। দুইদিন পর ওসি নাতনীকে নিতে ডাকে থানায় আমি চেয়ারম্যানসহ থানায় গেলে ওসি বলে আফতাব চেয়ারম্যান (আলমবিদিতর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান) মেয়ে (অপহারিতা) নিয়ে আসে নাই। সে মেয়ে নিয়ে আসার কথা ছিলো। আমি ও আমার আশরাফ চেয়ারম্যান ওসির কাছে জানতে চাই তাহলে মেয়ে উদ্ধার হবেনা বা মামলা এন্ট্রি হবেনা। তখন ওসি আবার দমক দিয়ে বলে জান দেখি কি করা যায়। আমার সাথে চেয়ারম্যান থাকার পরও ওসি ধমক দিয়ে কথা বলায় দুজন সাংবাদিকের সহযোগিতা চেয়ে তাদের খরচ দেই। সে সাংবাদিক দুজনে টাকা নিয়ে তারাও ওসি আর আফতাব চেয়ারম্যানের পাকে কথা কয়। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে অপহৃরিতার পরিবার দ্রুত মামলা এন্ট্রিসহ অপহারণের সাথে জড়িত গ্রেপ্তার করে অপহৃরিতাকে উদ্ধার দাবি জানান। এদিকে এ বিষয়ে ওসির কাছে জানতে চাইলে, ওসি মাসুমুর রহমান বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, অপহৃরিতা মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি।





























