
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শহীদ আঃ রব হল থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল নিতে ক্যাম্পাসে আসলে মারধরের শিকার হন ওশানোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী হায়াত উল্লাহ শুভ। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে তুলে নিয়ে শহীদ আব্দুর রব হলের ৩২৪ নং কক্ষে আটকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল বডি এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আজ ২৮ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল ৯:২০ এর দিকে এ ঘটনা ঘটে। হায়াত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। একই সাথে সে ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক ভিএক্স গ্রুপের কর্মী ছিলেন। হায়াতের সহপাঠী ও সিনিয়ররা জানায়, তিনজন অপরিচিত লোক এসে হায়াতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তবে এখনো পর্যন্ত ঐ তিনজনকে চিহ্নিত করা যায়নি।
হায়াত উল্লাহ শুভ জানান তাকে মারধরকারীদের নাম পরিচয় তিনি জানেন না। তবে মুখ দেখলেই ঐ তিনজনকে সনাক্ত করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নিরব বলেন, হায়াতের কাছ থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি - সে এবং তার বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছিল। দোকান থেকে খাবার কেনার পর হায়াতের বন্ধু দোকানে টাকা দিতে যায়। হায়াত পিছনে দাড়িয়েছিল। এসময় তিনজন লোক এসে হায়াতকে জিজ্ঞেস ' তুমি কি রব হলে ছিলে?' সে 'হ্যা' উত্তর দিলে তারা বলে 'রিক্সায় উঠো।' তখন হায়াত তার বন্ধুকে হাত দিয়ে ইশারা করে জানায় সে হলে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, তারা হলের রুম থেকে বই ও অন্যান্য জিনিস নিতে ক্যাম্পাসে আসে। পরে ওর সাথে থাকা বন্ধু হলে গিয়ে জনাতে পারে হায়াতকে মারধর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শহীদ আব্দুর রব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. একেএম আরিফুল হক সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের মালামাল নিতে হলে আসতেছে। এর মধ্যে একটা ঘটনা ঘটেছে যারাই এই কাজে জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে৷ বিশ্ববিদ্যালয় আগের মতো করে নৈরাজ্য চলতে পারেনা। কেউ হলে এসে আইন নিজের হাতে তুলে নিবে তা অন্যায়।
তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি দ্রুত ঘটানো হয়। আমরা প্রক্টরিয়াল বডিকে জানানোর সাত মিনিটে তারা এসে পৌছায় এবং আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। তবে এর মধ্যে দুবৃত্তরা পালিয়ে যায়।
মারধরের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে ছাত্রলীগ এর পক্ষে ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করে অপপ্রচার করার কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সহপাঠী জানান, হায়াত এমনিতেও তেমন রাজনীতি করত না, কিন্তু আন্দোলনের সময় হঠাৎ সে দলের প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে যায়৷ তাদের রাজনৈতিক বগি ভিত্তিক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ছাত্র আন্দোলন রুখে দিতে অনেক পরিকল্পনা করেছিল এমনকি অনেককে হুমকি ধামকি দিয়েছিল। হয়তো তখন কেউ ওর উপর ক্ষোভ জমিয়ে রেখেছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, আমরা এ বিষয়ে জানার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে যাই। আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে তার সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করেছি৷ সে এখন মোটামুটি সুস্থ। এঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে হল প্রভোস্টের সহযোগিতায় চিহ্নিত করা হবে৷ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।





























