
মো. আল আমিন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সভা সমাবেশ ও মানববন্ধনের মতো বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা শহরের ডাকবাংলো মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে সবচেয়ে বড় সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ করে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকা থেকে মিছিলসহকারে নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ গ্রহণ করে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলে পুরো উপজেলা শহর।এদিন ইকবাল সমর্থকদের মাঝে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়।
মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ‘ইকবাল ভাই যোগ্য লোক, মনোনয়ন তারই হোক’, ‘দুর্দিনে ইকবাল ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’ এমন স্লোগানসহ জাতীয়তাবাদী সমর্থনে ধানের শীষের পক্ষে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলে পুরো এলাকা।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলটির প্রার্থী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক হাল ধরে রেখে নেতাকর্মীদের বিপদে পাশে থেকে দলকে চাঙা রাখার জন্য কাজ করেছেন বলে বক্তারা দাবি করেন। আগামী নির্বাচনেও ইকবালের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন সবচেয়ে বেশি রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
গত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বাজিতপুর ও নিকলী এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে ছিলেন ইকবাল এমনটিই জানান নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, জেলার মধ্যে বিএনপির অন্যতম উর্বর আসন হচ্ছে কিশোরগঞ্জ-৫। এটি বিএনপির ‘দুর্গ’ হিসেবেও বেশ পরিচিত। এই আসনের জনগণ শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ছাড়া অন্য কাউকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মেনে নেবে না বলেও হুশিয়ারি প্রদান করেন বক্তারা।
অবিলম্বে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করার আহ্বান জানান উপজেলার নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশের সভাপতির বক্তব্যে মনোনয়নপ্রত্যাশী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন," দলের দুর্দিনে আমি বাজিতপুর-নিকলী দুই উপজেলাতেই নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে থেকেছি। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলা মোকাবেলা করেছি। আমিও একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি।"
এসময় তিনি আরো বলেন, "জোটের অজুহাতে আমাকে বাদ দিলে সেটা আমার প্রতি অবিচার হবে। কারণ আসনটি বিএনপির, এলাকাটি বিএনপির ঘাঁটি, সুষ্ঠু প্রতিটি নির্বাচনে এখান থেকে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে।"
বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বদলে জোটের কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিএনপি এ আসনটি হারাতে পারে বলেও মন্তব্য করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন বাদল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মামনুন রহমান পুটন, মোহাম্মদ আলী, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুজতবা জাহাঙ্গীর, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহরিয়ার শামীম, সদস্যসচিব ইফতেখার হায়দার ইফতি, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আলী হাসান সবুজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কবির হোসেন এবং শ্রমিক দলের সদস্যসচিব ফাইজুল হক টিটুসহ হাজার হাজার বিএনপি সমর্থকদের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থলটি রীতিমতো উৎসবের মাঠে পরিণত হয়েছিল।
বাজিতপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ মাখন, অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফজল হোসেন, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মানিক মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক হেলিম তালুকদারের উপস্থিতি যোগ করে নতুন মাত্রা।





























