
মোঃ সম্রাট আলী, দৌলতপুর
বাবা চলতে পারেন না, আর মা কথা বলতে পারেন না। দুই প্রতিবন্ধী মা-বাবার কোলজুড়ে আসে মিম্না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তার অসুস্থতাও। মাত্র দুই বছর বয়সেই জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াইয়ে লড়ছে ছোট্ট মেয়েটি। জন্মের পর থেকেই হৃদযন্ত্রে ছিদ্রজনিত জটিলতায় ভুগছে সে। অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবে দৌড়ে বেড়ানো, খেলাধুলা করা বা হাসিখুশি সময় কাটানো তার পক্ষে সম্ভব হয় না। চিকিৎসকদের ভাষ্য, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের চা-ব্যবসায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধী মোঃ মিনারুল ইসলাম (মিনার পাখি)-এর একমাত্র কন্যা মোছাঃ মেঘলা আক্তার মিম্না (২)।
মিম্নার বাবা জানান, জন্মের পর থেকেই তার শারীরিক জটিলতা ধরা পড়ে। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। গত ২৭ জানুয়ারি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল-এ শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ ইলিয়াস পাটোয়ারী জানান, মিম্নার হৃদযন্ত্রে ছিদ্র রয়েছে এবং দ্রুত অপারেশন করা জরুরি। অন্যথায় তার শারীরিক ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় তিন লাখ টাকার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু একজন ক্ষুদ্র দোকানদার হিসেবে এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা শিশুটির পিতার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে যে সামান্য সঞ্চয় ছিল, তা চিকিৎসা ব্যয়ে শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আশিক ইকবাল জানান, মিনারুল ইসলাম অনেক দিন আগে সৌদি প্রবাসী ছিলেন। সেখানে কাজ করার সময় ভবনের তৃতীয় তলা থেকে পড়ে গিয়ে কোমর ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান। তখন থেকেই তিনি আর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন না। বর্তমানে চায়ের দোকান থেকে কোনোরকমে তার সংসার চলে। ছোট শিশু মিম্নার চিকিৎসার জন্য তিনিও সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অসহায় পিতা মোঃ মিনারুল ইসলাম আরও বলেন, “আমার মেয়েটাকে বাঁচাতে চাই। সবার কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী একটু সাহায্য করলে আমার মেয়েটা নতুন জীবন পেতে পারে।”
শিশুটির চিকিৎসা সহায়তায় আগ্রহীরা ০১৪০১৭১৭৩৭০ নম্বরে যোগাযোগ করে সহযোগিতা করতে পারেন। এছাড়া সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে মোঃ মিনারুল ইসলামের ব্যক্তিগত নম্বরে।
স্থানীয় সচেতন মহল সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ছোট্ট মিম্না সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।





























