
মোঃ সোহরাব উদ্দিন মন্ডল
কাশিমপুর, গাজীপুর
শিশু যখন কান্না করে, সন্তানের কান্না থামাতে এগিয়ে আসেন মা।পরম মায়ায় বুকে আগলে রেখে সন্তানের কষ্ট দূর করতে মায়ের যেন কোন ক্লান্তি থাকে না।মায়ের এমন ভালবাসায় সন্তানের কষ্ট দূর হয়,কান্না ভরা মুখ হয়ে উঠে হাস্যোজ্জ্বল।
দূর হয় না শুধু কাশিমপুর-কোনাবাড়ি বাসীর কান্না,হাসি থেমে আছে সেই কবে থেকে,কেউ কি সেই খোজ রাখে? এই কান্না দেখে সবাই, কথার ফুলঝুরিতে শ্রুতিমধুর বক্তৃতাতে শান্তনা দিয়ে যায় সবাই।কিন্তু নেই শুধু কান্না থামানোর কার্যকর উদ্যোগ।
এই কান্না কাশিমপুর থেকে কোনাবাড়ির আঞ্চলিক সড়কের কান্না।দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ি-কাশিমপুর আঞ্চলিক সড়কটির প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা জুড়েই খানাখন্দে ভরা। সামান্য বৃষ্টি হলে পানিতে এসব খানাখন্দ ভরপুর হয়ে রাস্তা তলিয়ে যায়। তখন সাধারন মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। হেটে যাওয়ার মত কায়দা নাই এই রাস্তা দিয়ে।
জানা যায় কোনাবাড়ি ও কাশিমপুর ইউনিয়ন দুইটি বিলুপ্ত হওয়ার পর ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি গাজীপুর সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলেও পূর্ব থেকেই কোনাবাড়ি ও কাশিমপুর অঞ্চলটি শিল্পোন্নত। এ রাস্তার পাশেই রয়েছে কোনাবাড়ি বিসিক,এবি এম ফ্যাশান,যমুনা গ্রুপ,কেয়া গ্রুপ,ইসলাম গ্রুপ,রিপন গ্রুপ,স্ট্যাডার্ন্ড গ্রুপ,কটন ক্লাব বিডি লিঃ,এমা সিনটেক্স,ডেল্টা গ্রুপ,মন্ডল গ্রুপ,মাল্টি ফ্যাবস্ লিঃ,মাইমুন টেক্সটাইলসহ ছোট বড় প্রায় দুই শতাধিক কলকারখানা।
সড়কটি প্রায় গত দশ বছরেও টেকসই সংস্কার না হওয়ায় কাদামাটি ও পানি জমে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুন। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।
গতবছর ৫ সেপ্টেম্বর মানুষের দুর্ভোগ লাগাবে ২৪
ফিট প্রসস্ত ৭ কিলোমিটার এলাকায় আরসিসি এবং দুই কিলোমিটার কার্পেটিং এর উদ্যোগ নেয়
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক (এমপি) এই রাস্তার সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন। কিন্তু ৬ মাসের মধ্যে ৬৬ কোটি ৯৮ লাখ ৫৯০ টাকা ব্যায়ে ৩ টি ঠিকাদার প্রতিষ্টানের এ সংস্কারকাজ শেষ করার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার কারখানা শ্রমিক ও আশেপাশে ১০-১২ টি গ্রামের বাসিন্দারা চলাচল করছেন ঝুঁকি নিয়েই।
অনুপযোগী এসব সড়কে বাধ্য হয়েই চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
আল-আমিন নামে এক পথ যাত্রী বলেন,পাটায় পুতা ঘষাঘষি মরিচের দশা শেষ। কোনাবাড়ি-কাশিমপুর
সড়কের অবস্থা ঠিক তাই। নির্বাচন আসলেই প্রার্থীদের মুখে উন্নয়নের ফুলঝুরি শোনা যায়। নির্বাচনের পরে আর তাদের কোন খোঁজ খবর থাকে না। এই রাস্তা কি কোনদিনই ঠিক হবেনা।
রফিক নামে এক ইজিবাইক চালক বলেন,এই রাস্তায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলে পুরো রাস্তা কাঁদা ও পানি দিয়ে ভরপুর থাকে। যাঁর কারণে গাড়ির সমস্যা হয়।যেই
কয় টাকা ভাড়া মারি তা গাড়ি ঠিক করতেই চলে যায়।
আমেনা নামে এক পোশাক শ্রমিক বলেন,বৃষ্টি হলে
এই রাস্তা দিয়ে হাটা যায় না। শুকনো মৌসুমেও থাকে ধুলো বালি। অফিসে যাতায়াত করতে অনেক কষ্ট হয়। রাস্তা ভাঙ্গার কারণে ঠিক মতো গাড়ি ও পাইনা। অফিসে যেতে লেট হয়,আর লেট
হলেই হাজিরা বোনাস থাকেনা। অনেকটা ক্ষোভ নিয়ে তিনি বলেন, দেশে এতো কাজ হয় এই রাস্তার কাজ হয়না কেন?
এ বিষয়ে জানতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল ৮ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একে এম হারুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোনাবাড়ি কাশিমপুর রাস্তার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আকবর হোসেন এর মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা
পাঠানো হয়। তাতেও তিনি সাড়া দেননি।





























