
উচ্চ শুল্ক, ডলার সংকট ও ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতায় বিদেশি ফল আমদানি কমেছে। এ পরিস্থিতিতে রোজায় চাহিদা বাড়লে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন আমদানিকারকেরা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, রোজার আগে এখনও যথেষ্ট সময় রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের তুলনায় বিদেশি ফল আমদানি হয়েছে অর্ধেকেরও কম। আপেল, কমলা, আঙ্গুর ও নাশপতির কোনোটি আমদানি হয়েছে ১০ ভাগ, কোনোটি এসেছে ৪৮ শতাংশ। সামনে রোজা আসছে তবু আমদানিকারকদের তোড়জোড় বাড়েনি।
ব্যবসায়ীরা বলছে, গত দুই বছরে ফল আমদানিতে শুল্ক প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিছু ফলের দামের চেয়েও শুল্ক বেশি। এ ছাড়া লেটার অফ ক্রেডিট (এলসি) খোলা ও ডলার সংকটও রয়েছে।
চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরী সদস্য জুনায়েদ হক বলেন, ‘আমরা আগে যে টাকা দিয়ে ফল আনতাম এখন ডিউটি তার চেয়ে বেশি। যেমন এক কন্টেইনার আপেল-মাল্টায় ২৩ লাখের বেশি ডিউটি দিতে হয়। এটা আগে দিতাম ১২ লাখ টাকার মতো। খেজুরের বেলায়ও একই অবস্থা। যদি সরকার ব্যবস্থা না নেয় তবে রোজায় মানুষ ফল দিয়ে ইফতার করতে পারবে না।’
চাকতাই-খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ জাহেদী বলেন, ‘গত ১৫ দিন বা সপ্তাহ আগে আমদানিকারকদের তিন মাসের ক্রেডিটে পণ্য আমদানির সুযোগ দিয়েছে। এতে আমদানিকারকের সুবিধা হবে। এতে পণ্য আনা সহজ হবে। এটা দ্রুত চালু করা উচিত।’
তবে ফল নিয়ে এখনই চিন্তার কিছু নেই বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ। আমদানি শুরু না হলেও যথেষ্ট অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে সংকট হবে। যে পরিমাণ আমদানি অনুমতিপত্র দেওয়া আছে, তার ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না। উদাহরণস্বরুপ যদি বলি কমলা, আপেল যে পরিমাণ অনুমতি দেওয়া আছে রোজায় নিয়মিতই আমদানি হচ্ছে। আমরা যথাযথ পরীক্ষার মাধ্যমেই এসব ছাড় দিচ্ছি।’
সবচেয়ে বেশি ফল আসে ভারত, পাকিস্তান, চীন ও অস্ট্রেলিয়া থেকে। এর বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকেও আসে বিপুল ফল।







































