
মোতালেব হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা থেকে পশুর কাঁচা চামড়া ভারতে পাচার প্রতিরোধে সতর্কতা জারি করেছে বিজিবি। এছাড়া কোরবানির পর দশ দিন ঢাকায় যেন কাঁচা চামড়া প্রবেশ করতে না পারে তাই চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে ৩৮ লাখ টাকার লবণ বিতরণ করা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে চামড়া পরিবহন রোধে মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
ভারতে কোরবানির পশুর কোন চামড়া পাচার করতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রেজাউল কবির।
তিনি শুক্রবার সকালে কুমিল্লার বিবির বাজার বিজিবি ক্যাম্পে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এই হুশিয়ারি দেন।
সেক্টর কমান্ডার আরো বলেন, এবছর আমরা গরু চোরাচালান প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সচেষ্ট ছিলাম এবং তা হতে দেইনি। ঠিক একই ভাবে চামড়া চোরাচালান প্রতিরোধে ও বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। কোরবানির পর চামড়া চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত টহল বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিজিবি কুমিল্লা সেক্টরের অধীনে হবিগঞ্জ থেকে শুরু করে ফেনী জেলা পর্যন্ত মোট ৩২৭ কিলোমিটার সীমান্ত। কুমিল্লা সেক্টরের অধীনে ২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন, ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন, ১০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এবং চার বিজিবি ব্যাটালিয়নকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খুব কাছাকাছি সীমান্ত হওয়ায় এই অঞ্চল দিয়ে কোরবানির পশুর চামড়া ভারতের পাচারের প্রবণতা থাকায় এবার আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হলো।
এদিকে কুমিল্লায় কোরবানির পশুর কাচা চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে ২৪০ মেট্রিক টন লবন বিতরন করা হয়েছে।
ঈদের পর দশ দিন রাজধানী ঢাকায় কোরবানির পশুর চামড়া ঢুকতে দেয়া হবে না বিধায় স্থানীয়ভাবেই সংরক্ষণ করার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক মোঃ আমিরুল কায়সার বলেন, তালিকা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে চামড়া ক্রয়ের পর যে সকল প্রতিষ্ঠান চামড়া সংগ্রহ করবেন তারাই মূলত পাবেন বিনামূল্যের এ কাচা লবণ। তবে অগ্রাধিকার পাবেন জেলার মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো। যে সকল প্রতিষ্ঠান চামড়া সংগ্রহ করবেন তবে শুধুমাত্র তারাই পাবেন সরকারি ভাবে বিতরণকৃত বিনামূলের এ লবণ।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের তথ্য বলছে, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকাসহ জেলার ১৫ উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে এ লবণ। সরকারিভাবে এ জেলায় লবণ ক্রয়ের জন্য ৩৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। প্রতি মন লবণ ক্রয় করা হবে ১৩ হাজার টাকায়। তবে ব্যাট, ট্যাক্সসহ প্রতি মন লবনের মূল্য দাঁড়াবে ১৪ হাজার ৯৫০ টাকায়।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, ঢাকায় চামড়া পরিবহন ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে।





























