
নাহিদ ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো: মাদকদ্রব্যের ভয়াল থাবা থেকে দেশ ও সমাজকে মুক্ত রাখতে সরকারের চলমান কার্যক্রম তদারকির অংশ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুব আলম।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) পরিদর্শনকালে তিনি ডিএনসি বগুড়ার সার্বিক কার্যক্রম, মাদকবিরোধী অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি, মামলা পরিচালনা, আটক প্রক্রিয়া, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মাদক নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপসচিব মো. মাহবুব আলম বলেন,“মাদকাসক্তি একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, একটি পরিবার ও সমাজকে বিপর্যস্ত করে তোলে। সরকার মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই নীতি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয়, পেশাদার ও মানবিক ভূমিকা পালন করতে হবে।”* তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো, তথ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করা এবং মাদককারবারিদের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
জনসচেতনতা ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব উপসচিব মো. মাহবুব আলম বলেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের মাধ্যমেই টেকসইভাবে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। এ জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ডিএনসি বগুড়ার ভূমিকার প্রশংসা পরিদর্শনকালে তিনি ডিএনসি বগুড়ার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে সফল মাদকবিরোধী অভিযান, মাদক উদ্ধার এবং মাদককারবারিদের আইনের আওতায় আনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, *“যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন, সরকার তাদের পাশে রয়েছে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না, তবে সৎ ও সাহসী কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।
সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস পরিদর্শন শেষে উপসচিব মো. মাহবুব আলম ডিএনসি বগুড়ার দাপ্তরিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অচিরেই বগুড়াসহ সমগ্র দেশকে মাদকাসক্তির অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে। শেষে তিনি বলেন, *“মাদকাসক্তিমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।



































