
স্টাফ রিপোর্টার: দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে ছেলেকে জমি লিখে না দেয়ায় নূর বানু নামে ৬২ বছরের বৃদ্ধ মাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক দম্পতি পুত্র ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। আহত বৃদ্ধা বর্তমানে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ছেলে-পুত্রবধূর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন আহত মা।
কোটা আন্দোলন ও সরকার প্রধানের পদত্যাগের পর চারিপাশে যখন থমথমে অবস্থা ঠিক সেই সুযোগে গত শনিবার (১০ই আগষ্ট) সকালে উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের বিঝট্টি গ্রামের মটকি ডাঙা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত বৃদ্ধা নূর বানু ওই গ্রামের মৃত ইসমাইল সরকারের স্ত্রী।
অভিযুক্ত ছেলে নূর ইসলাম পঞ্চগড় তেতুলিয়া উপজেলার ভোজনপুর ইউনিয়নের ভোজনপুর বেগম খালেদা জিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও তার স্ত্রী ছেলিনা আকতার স্থানীয় একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসবে কর্মরত আছেন।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত ইসমাইল সরকার ও তার স্ত্রী নুর বানুর সংসারে ৪ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখেপারাঢ মৃত্যু বরন করেন। মৃত্যুর পূর্বে ইসমাইল সরকার স্ত্রীর প্রতি খুশি হয়ে স্ত্রীর নামে দুই দলিলে ৪৩ শতক জমি খরিদ করেন।
বাকি জমি সন্তানদের জন্য রেখে যান। ইসমাইল সরকারের মৃত্যুর পর এলাকার জনপ্রতিনিধি, মহৎ প্রধান ও আত্মীয় স্বজন বসে ইসমাইল সরকারের রেখে যাওয়া সম্পত্তি মুসলিম আইন অনুযায়ী উকিল দারা ফারাযেজ এর মাধ্যমে স্ত্রী, কন্যা, পুত্রদের মাঝে মৌখিক ভাবে ভাগ বন্টন করে দেন। ফারায়েজ অনুযায়ী ৪৯ শতক জমি নুর বানু। নুর বানুর মোট সম্পত্তি দাড়ায় ৯২ শতক।
বৃদ্ধা নুরবানু বর্তমানে তিনি ৩য় ছেলে নূর আলমের সঙ্গে এক বাড়িতে থাকেন। তার থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসার সকল দ্বায়িত্ব নিয়ে দেখা শুনা করেন ছেলে নূর আলম। বৃদ্ধা নুর বানু খুশি হয়ে ৩য় ছেলেকে কিছু জমি লিখে দেন। জমি লিখে দেয়ায় জেনো কাল হলো সেই বৃদ্ধার।
বড় ছেলে নূর ইসলাম দেশের অস্থিতিশীল পরিবেশ শুরু হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সুযোগ বুঝে চলে আসেন বাড়ীতে। বাড়িতে আসার পূর্বে বৃদ্ধা নূর বানুকে মোবাইল ফোনে হুমকি প্রদান করে বলেন আমি আসতেছি তোমাদের ব্যাবস্থা করতে।
ঘটনার দিন সকালে বৃদ্ধা নুর বানুর বড় ছেলে শিক্ষক নূর ইসলাম সহ বাকি দুই ভাই তসলিম ও নূর মোহাম্মদ কে সঙ্গে ৩য় ছেলে নূর আলমের বাড়ীর দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। পরে সেই বৃদ্ধ মা কে জমি লিখে দেয়ার কারন জানতে চান। বৃদ্ধা নুর বানু তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন তোমরা আমার কোন খোজ খবর নাওনা, থাকা খাওয়া ও চিকিৎসা করাও না, নুর আলম আমার সকল দ্বায়িত্ব পালন করে তাই আমি খুশি হয়ে তাকে সামান্য জমি লিখে দিয়েছি।
এ কথা বলার পর পরই বড় ছেলে উত্তজিত হয়ে তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে বৃদ্ধার দুই সন্তানকে হুকুম দিয়ে বলেন এই বেটির হাত পা বেধে ধোলাই দে জমি লিখে দেয়ার স্বাধ মিটিয়ে দে। এর পর হুকুম পাওয়া মাত্র দুই সন্তান ও তাদের বউয়েরা বৃদ্ধা নুর বানুকে মারধর করে। এসময় ৩য় ছেলে নুর আলম ও তার স্ত্রী এগিয়ে আসে তাদেরকেও মারধর করে। এক পর্যায়ে নূর আলমকে মেরে মাটিতে ফেলে কোদাল দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেস্টা করে।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই বৃদ্ধা, তার ছেলে ও ছেলের বউকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করায়। এ ঘটনায় তাদের মাথায় ও শরীরের বিভিন্নস্থানে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। সেই বৃদ্ধা দিনাজপুর মেডিকেল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাসা আসার একদিন পর মাথার যন্ত্রনা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক নূর ইসলাম এর সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তার স্ত্রী ছেলিনা আকতার ফোন রিসিভ করেন, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি মিথ্যা।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসনাত খান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।





























