
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের সখেরগাঁও গ্রামে এক নারীকে মামলার নাম বাদ দেওয়ার প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের অভিযানে প্রধান আসামি মো. জালাল হোসেন (৪০) গ্রেপ্তার হলেও বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।
ভুক্তভোগী নারী (৩৫) বুধবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জালালকে গ্রেপ্তার করে। আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন জানান, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চলছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত জালাল ভুক্তভোগীর স্বামীর চাচাত ভাই। ২০২৪ সালে পারিবারিক কলহের জেরে থানায় দায়ের করা একটি মামলায় ভুক্তভোগীর স্বামীকে প্রধান আসামি করা হয়। এ মামলার নাম বাদ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জালাল ওই নারীর সঙ্গে ফোনালাপ শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
১৫ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফাঁকা পেয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করে জালাল। পরবর্তীতে মামলার প্রলোভন দেখিয়ে নরসিংদীর একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করে এবং সেই ঘটনা মোবাইলে ধারণ করে। এরপর ব্ল্যাকমেইল করে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ভিডিও ফাঁসের হুমকি দিয়ে জালাল এবং তার সহযোগীরা তাকে বারবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় এবং বিষয়টি মীমাংসার শর্তে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। এমনকি, এ ঘটনায় কোনো মামলা না করার জন্য স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
ব্ল্যাকমেইলের মাত্রা বাড়তে থাকলে এবং ভিডিও বারবার ছড়িয়ে পড়ার পর ভুক্তভোগী থানায় মামলা করতে বাধ্য হন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চালায় এবং জালালকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি এনায়েত হোসেন বলেন, এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আমরা দ্রুত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবো। ভুক্তভোগীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।





























