
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জন জীবন। আকাশে মেঘ জমলেই কিংবা সামান্য বাতাস শুরু হলেই পালিয়ে যায় বিদ্যুৎ। এই প্রচণ্ড তাপদাহে বিদ্যুতের ভেলকিবাজির শেষ নেই। দিন-রাতে প্রায় অর্ধেক সময় ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ৪-৫ বার লোডশেডিং হয়েছে। গ্রাহকরা বলছেন, পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।মধ্যনগরে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের হাজার হাজার গ্রাহক। সব চেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রচন্ড গরমের যন্ত্রণায় প্রতিটি বাড়িতে শোনাযায় শিশুদের আত্মচিৎকার। স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা রয়েছে চরম বিপাকে।
পল্লি বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগ,'গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে দিনরাত ২৪ ঘন্টায় ৫-৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে। বিশেষ করে রাতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। সারাদিনে দুই তিন ঘন্টা থাকে বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।এই উপজেলায় প্রায় ২৪ হাজার পল্লী বিদ্যুৎতের গ্রাহক রয়েছে।
তাছাড়া নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভোগান্তি। ঘন ঘন এমন লোডশেডিংয়ের কারণে কম্পিউটার, ফ্রিজ, পানির মোটর, ফটোকপি মেশিনসহ বিদুৎ চালিত যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার পথে।
এছাড়াও বাড়তি ভোগান্তি হিসেবে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত ভুতুড়ে বিল।
লোডশেডিং এর যন্ত্রণায় ফুঁসে উঠছে সাধারণ জনগণ, যে কোন সময় ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের অফিস ঘেরাও হতে পারে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
মধ্যনগর বাজারের ব্যবসায়ি মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ পাওয়ায় যাচ্ছে না। গরমে বিদ্যুতের না থাকায় গা ঘেমে লোকজন সর্দি-জ্বর, কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পরপর বিদ্যুৎ আসার কারণে ফ্রিজে রাখা খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ফারুকনগর গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, কারেন্ট থাকছেই না। সময় মতো কোনো কাজই করতে পারছি না কারেন্ট না থাকায়। একবার কারেন্ট চলে গেলে ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যে আর কারেন্ট আসার খবর থাকে না।
অভিযোগ অস্বীকার করে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর সাব -জোনাল অফিসের এজিএম মো. হাফিজুর রহমান বলেন,
আশুগঞ্জ গ্রীড ফেইল করার কারণে পুরো বৃহত্তর ময়মনসিংহে লোডশেডিং বেড়েছে।তবে মধ্যনগর উপজেলার বিদ্যুৎ এর লাইন আলাদা না থাকায় অন্যান্য এলাকা থেকে একটু বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।
চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। লোডশেডিং সমস্যা সমাধানে কাজ চলমান রয়েছে।





























