
মুসলিম শিক্ষক না থাকায় ইসলাম শিক্ষায় ব্যাঘাত, পাঠ দিচ্ছেন হিন্দু শিক্ষক ফেনী জেলা প্রতিনিধিফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের তুলাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ক পাঠদান নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে মোট ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন, তবে তাঁদের কেউই মুসলিম নন। ফলে বাধ্য হয়ে একজন হিন্দু শিক্ষক ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছেন। এতে ধর্মীয় পাঠদানে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে কোরআনের আয়াত ও ইসলামিক শিক্ষা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩২৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ জন। বিভিন্ন শ্রেণিতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিম্নরূপ: প্রাক-প্রাথমিক: ২ জন, প্রথম শ্রেণি: ৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণি: ৫ জন, তৃতীয় শ্রেণি: ১০ জন, চতুর্থ শ্রেণি: ৬ জন, পঞ্চম শ্রেণি: ২ জন।বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক না থাকায় অভিভাবকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তাদের সন্তানদের ইসলাম শিক্ষা সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে স্থানীয় মাদ্রাসায় ভর্তি করাচ্ছেন।স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রশীদ বলেন, গ্রামটি হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় এখানে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। কিন্তু যে কজন মুসলিম শিক্ষার্থী রয়েছে, তাদের সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। ইসলাম শিক্ষা পাঠদানের জন্য একজন মুসলিম শিক্ষক থাকা উচিত।অন্যদিকে, অভিভাবক অজিত বরণ দাসও একমত পোষণ করে বলেন, বিদ্যালয়ে সব শিক্ষক সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। তাই অন্তত একজন মুসলিম শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া দরকার।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শ্রিপ্রা রানী পাল বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো মুসলিম শিক্ষক না থাকায় ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে পাঠদান করতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদেরও ঠিকমতো শেখানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরাও প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছি।বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, আমরা আগে এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না। তবে এখন শিক্ষা অফিসের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল গনি জানান, নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ভিত্তিতে কোনো আলাদা ব্যবস্থা নেই। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, “আমি নতুন এসেছি, তাই সব উপজেলার শিক্ষকদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। রমজানের পরে এ সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় শিক্ষকদের জন্য কোনো পৃথক পদ নেই। ফলে যে কোনো ধর্মের শিক্ষক যে কোনো বিষয়ে পাঠদান করতে বাধ্য হন। এই পরিস্থিতিতে ইসলাম শিক্ষা বা অন্যান্য ধর্মীয় বিষয় সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের শেখানো কঠিন হয়ে পড়ে।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহীম বলেন, মুসলমান শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ে শতভাগ হিন্দু শিক্ষক নিয়োগ রহস্যজনক। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত এবং দ্রুত একজন মুসলিম শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ইসলাম শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহি উদ্দিন খন্দকার বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলিম মা-বাবা চান তাঁদের সন্তান কোরআন ও ইসলাম শিক্ষা শিখুক। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্মের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকায় অভিভাবকরা সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। তাই সরকারি বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকদের জন্য আলাদা পদ সৃষ্টি করা জরুরি, অন্যথায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়বে।তুলাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ক পাঠদানে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণ উদ্বিগ্ন। এ সমস্যা সমাধানের জন্য অন্তত একজন মুসলিম শিক্ষক নিয়োগের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে একজন করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দিলেও দ্রুত বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।





























