
সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের জীবন শুধুই নিজের জন্য নয়—অন্যের জন্য। তেমনই একজন মানুষ রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের তরুণ শিল্পউদ্যোক্তা আনছার আলী। সম্পদের প্রাচুর্যের মধ্যে থেকেও যিনি নিভৃতে বিলিয়ে দিচ্ছেন নিজেকে গরীব-অসহায় মানুষের সেবায়। গত এক দশক ধরে নিরন্তর সমাজসেবার কারণে এলাকাবাসীর ভালোবাসায় তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘গরীবের বন্ধু’ হিসেবে।
বয়স ষাটের কাছাকাছি হলেও আনছার আলীর কর্মস্পৃহা তরুণদেরকেও হার মানায়। সংসার ও ব্যবসা একপাশে সরিয়ে রেখে প্রতিনিয়ত ছুটে চলেছেন দরিদ্র মানুষের পাশে। কারো ঘরে খাবার নেই, কারো সন্তান টাকার অভাবে পড়াশোনা ছাড়ার উপক্রম—খবর পেলেই ছুটে যান তিনি। শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, মানবিকতার স্পর্শে অসহায়দের মুখে হাসি ফোটান আনছার আলী।
কুলসুম বেগমের বয়স প্রায় ষাট। স্বামী মারা গেছেন প্রায় দশ বছর আগে। সন্তান থাকতেও উপেক্ষিত জীবন পার করছিলেন তিনি। না পেয়েছেন বয়স্ক ভাতা, না পেয়েছেন বিধবা ভাতা। এমন দুর্দশার খবর পেয়ে আনছার আলী ছুটে যান তাঁর পাশে। শুধু কুলসুম বেগমই নন, এমন অসংখ্য পরিবারই পেয়েছে তাঁর সহযোগিতা।
প্রতিবছর রমজান মাসের শুরুতেই রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য আনছার আলীর আয়োজন চোখে পড়ার মতো। গরীবের ঘরে পৌঁছে দেন খেজুর, ছোলা, ডাল, তেলসহ রমজানের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ঈদের আগে বিতরণ করেন সেমাই, চিনি, চাল, ডাল, তেল, মুরগি ও শাড়ি-লুঙ্গি। তাঁর এই উদ্যোগে ঈদের আনন্দ পায় শত শত অসহায় পরিবার।
সমাজসেবার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন আনছার আলী। শত শত বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। শুধু কর্মসংস্থানই নয়, তাদের পাশে থেকে উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সমাজে স্বাবলম্বী হতে সহযোগিতা করেন তিনি।
অর্থের অভাবে কোনো মেয়ের বিয়ে আটকে থাকলে সাহায্যের হাত বাড়ান আনছার আলী। অনেক অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়ের সম্পূর্ণ খরচ তিনি নিজেই বহন করেন। এছাড়া কোনো দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে তিনি তাদের শিক্ষার যাবতীয় খরচ নিজের কাঁধে তুলে নেন। স্থানীয় স্কুল-কলেজে বই বিতরণ থেকে শুরু করে শীতের সময় কম্বল বিতরণ এবং মসজিদ-মাদ্রাসায় কোরআন শরীফ দানসহ নানা সমাজসেবামূলক কাজে তিনি সক্রিয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা আনছার আলীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পোষণ করেন। পর্শি গ্রামের কুদ্দুস মিয়া বলেন, “অনেক টাকার মালিক হয়েও গরীবদের সঙ্গে এমন আন্তরিকভাবে মেশেন, যা খুব কমই দেখা যায়।” জাঙ্গীর এলাকার ফাতেমা বেগমের ভাষায়, “বিপদে-আপদে ডাক দিলেই আনছার ভাই পাশে থাকেন। এমন মানুষ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।”
সমাজসেবায় নিরন্তর কাজ করে যাওয়া এই মানুষটি চান না প্রচারের আলোতে আসতে। নিজের কাজের মাধ্যমেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পছন্দ করেন তিনি। এ বিষয়ে আনছার আলী বলেন, “আল্লাহ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন। আমি সমাজের অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চাই। মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কিছু নেই।”
একজন আনছার আলী শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি সমাজসেবার এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর উদ্যোগ, ত্যাগ এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সমাজের অন্যদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এমন একজন মানুষের কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবসেবায় উৎসাহিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা রূপগঞ্জের মানুষের।





























