
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তার নদীর পানি কমতে শুরু করায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। শুকনো মৌসুমে হঠাৎ তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ছে কমপক্ষে ২০ থেকে ২২টি পরিবার। এর ফলে বিপাকে পড়ছে নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষ।
জানা গেছে, তিস্তায় পানি কমতে থাকলেও তিস্তা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে ২০ থেকে ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও কয়েক শত একর ফসলি জমি। চলতি বর্ষা মৌসুমেই তিস্তা এগিয়ে এসেছে লালমনিরহাটের কাকিনা ও রংপুর অঞ্চলের যোগাযোগ সড়কের হাফ কিলোমিটার থেকে অনেক কাছে নদী।
রংপুরের গঙ্গাচড়া মহিপুর শেখ হাসিনা সেতুর পশ্চিম পাশের সেতু রক্ষা বাঁধের মোকা থেকে লক্ষীটারী ইউনিয়নের পূর্ব ইচলিগ্রাম পর্যন্ত তিস্তার তীরবর্তী প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রতিদিনই তিস্তার নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে শত শত একর জমির ফসল।
স্থানীয়রা বলছেন, মেম্বার, চেয়ারম্যান ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। বাড়ি-ঘর, চলাচলের রাস্তা, জমির ফসল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঝে মধ্যে জিও ব্যাগ দিয়ে দায়সারা সংস্কারের কাজ করছেন। এই নদীর মাঝে মধ্যে গতি পরিবর্তন হয়ে যায়।
লক্ষীটারী ইউনিয়নের চর ইচলি গ্রামের বাসিন্দা শাহাজান মিয়া বলেন, তিস্তার নদীর ভাঙনের হুমকিতে ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিয়ে রাস্তার বসবাস করা হচ্ছে। দুর্ভোগ আর ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে পদে পদে। অতিদ্রুত ভাঙন স্থানগুলো সংস্কার করা না হলে আরও তীব্র ভাঙন দেখা দিতে পারে।
স্থানীয়রা বলছেন, উজানে ভারি বৃষ্টিপাত হলেই ভাঙন দেখা দেয়। আর রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কটি হুমকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নদী পারের বসবাসকারীরা। এতে তিন গ্রামের ১ হাজার ৬০০ পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করছেন তারা। আবার তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত গঙ্গাচড়া মহিপুর শেখ হাসিনা সেতুটিরও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
গত কয়েক মাস আগে মহিপুর তিস্তা সেতুটির ওপর দেখা দিয়েছে ফাটল। পরে ফাটল সংস্কার করে জেলা প্রশাসন। সেই সময় যান চলাচল বন্ধ করা হলেও আবারও খুলে দেওয়া হয় সড়কটি।
লক্ষীটারী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোন্নাফ মিয়া বলেন, ‘প্রায় ৮-১০ দিন থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ভাঙনের বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি লোক পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। কয়েকদিন আগেও তিস্তা নদীর ভাঙন আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় তিন-চার কিলোমিটার দূরে ছিল। এই কয়েকদিনেই ভাঙতে ভাঙতে তিস্তা আমাদের বাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে। এখন প্রাধান সড়ক থেকে মাত্র হাফ কিলোমিটারের কাছে চলে এসেছে তিস্তা। উজানে বৃষ্টি হলে এই ভাঙন প্রধান সড়কেও আঘাত হানতে পারে।’
একই গ্রামের বাসিন্দা তিস্তার ভাঙনে ভিটামাটি বিলীন হওয়া যাওয়া কয়েকজন জানান, কয়েকদিনের ভাঙনে সব বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ি-ঘর, ফসলি জমিগুলাও ভেঙে গেছে। সরকারি কেনো লোকজনের দেখা পাওয়া যায়নি। ভেঙে যাচ্ছে মাঠঘাট, গাছ, বাঁশ ভাঙন। আটকানোর চেষ্টা করেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
এ বিষয় গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ তামান্না বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনে ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠিয়েছিলাম। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।’
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, তিস্তা নদীর ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ৫১ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটার গত শনিবার। পানি প্রবাহ ৫১ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার ওঠানামা করছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, ‘রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল সামগ্রিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। তবে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল বিপৎসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।’





























