
পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর পত্নীতলায় ৩নং দিবর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের রাহাদ জামানের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিচারের নামে ভয়ভীতি, হুমকি ও গরীবদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, স্বেচ্ছাচারিতা এবং ভূক্তভোগী সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ তিনি ঘুষ ছাড়া কিছুই বোঝেন না।
তাই চেয়ারম্যান রাহাদ জামানের পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে এলাকার অত্যাচারিত ও সুবিধা বঞ্চিত নারী-পুরুষ।
বৃহষ্পতিবার ৩ অক্টোবর দুপুর ১২টায় উপজেলার বাকরইল মোড়ে দিবর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে তার পদত্যাগ চেয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার শতশত মানুষ।
স্থানীয় রাকিবুল ইসলাম নামের এক যুবকের নেতৃত্বে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় তার শ্লোগানের সুরে তাল মিলিয়ে পদত্যাগ চেয়ে স্বত:স্ফুর্তভাবে শ্লোগান দিতে থাকেন উপস্থিত নারী-পুরুষরা।
৫৮ বছরের বিধবা নারী সেফালী রাণী বলেন, আমার স্বামী গত বছর মারা যাবার পর চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলাম ভাতার কার্ড নিতে। তিনি সরাসরি না করে দিয়েছেন এবং বলেছেন তোমার শরীর ভালো আছে, খেটে খেতে পারবে, বিধবা ভাতা কি করবে?
আরেক ভূক্তভোগী খালেদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, যার টাকা থাকে, সে সুযোগ সুবিধা পায়। এছাড়া হয়রানি তো আছেই। গরীব-দুখি হয়েও তার কাছ থেকে সুবিধা পাওয়া যায়না।
একই ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ খোকা মন্ডল। তিনি একটা মামলায় জড়িয়ে গেলে তাকে বরখাস্ত করা হয়। দীর্ঘ ৮বছর আইনি লড়াই শেষে খালাস পায় ওই গ্রাম পুলিশ। এই ৮বছরের সন্মানি ভাতা বাবদ প্রায় ৬লাখ টাকা প্রাপ্য ছিলেন তিনি। চাইতে গেলে চেয়ারম্যান উল্টো হুমকি দিয়ে বসেন আমাকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে, নইলে তোমাকে বরখাস্থ করে রাখবো। ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও সেই টাকা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন চেয়ারম্যান রাহাদ জামান।
তাদের মতো আদিবাসি নারী মিনতি রায় পদত্যাগের দাবি চেয়ে দাঁড়িয়েছেন মানববন্ধনে। এছাড়া মেরিনা, বিকালি রায় ও মৌসুমি রায়সহ শত শত নারী পুরুষের একই দাবি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ।
মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যান রাহাদ জামান দূর্নীতিবাজ ও ভূমি দস্যু। তিনি গরীবকে মানুষ মনে করেন না। তিনি খারাপ ব্যবহার করেন। তার কাছে গিয়ে শান্তিমতো কথা বলা যায়না। তিনি ব্যস্ততা দেখে আমাদের মতো গরীবদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। তিনি অবৈধ ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। তার কাছ বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ সাধারণ মানুষ কোন কাজে গেলে টাকা ছাড়া কাজ করতেন না। তার অত্যাচারে ইউনিয়নের লোকজন ছিল অতিষ্ঠ। তাই অবিলম্বে তার পদত্যাগের দাবি জানান।
এদিকে তার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যরা অনাস্থাও নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে বহাল তবিয়তে থেকে গেছেন চেয়ারম্যান রাহাদ।
সকল অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান রাহাদ জামান প্রশ্নের সুরে বলেন, মোবাইলে বলবো, নাকি সরাসরি বলবো?। আসেন সামনা-সামনি কথা বলি। আর আমার কথা আমি বলবোনা। আপনি তদন্ত করে দেখতে পারেন।





























