
আলমগীর হোসেন খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :একই স্থানে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাট শাপলা চত্বরে একই সময়ে উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা দেখা গেছে। দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় আজ রবিবার দুপুর পর্যন্ত অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ দেখা যায়। বেলা ২টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দোকানপাটে ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়।
জানা গেছে, খানসামা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়ার অনুসারী এবং আরেকটি অংশ এই সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী। তাঁদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।
আজ সকালে পাকেরহাট শাপলা চত্বরে সরেজমিনে দেখা যায়, নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ভোর থেকে মানববন্ধনের জন্য জড়ো হতে থাকেন কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী নেতা-কর্মীরা। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে এই গ্রুপের মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শাহরিয়ার জামান শাহ নিপুণ, উপজেলা বিএনপির সদস্য আজিজার রহমান শাহ ও মহসীন আলী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুর রউফসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
কর্নেল গ্রুপের কর্মসূচি শেষের দিকে সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়ার অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিলের জন্য পাকেরহাট জাকির মার্কেট এলাকায় জড়ো হতে শুরু করলে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় মিয়া গ্রুপের অনুসারী সাব্বির হোসেন নামের ছাত্রদলের এক কর্মী আহত হয়ে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেই সঙ্গে মিয়া গ্রুপ দাবি করে, কর্নেল গ্রুপের অনুসারীরা তাদের দলীয় কার্যালয় ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছেন।
এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় দুই পক্ষের মিছিলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করে। তবে দুই পক্ষ পৃথক সময়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করে দুপুরের মধ্যে স্থানত্যাগ করায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা–কর্মীর সঙ্গে দৈনিক আলোকিত সকল পত্রিকার এই প্রতিবেদকের কথা হলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিনাজপুর-৪ সংসদীয় আসনের চিরিরবন্দর উপজেলায় বিএনপির ব্যানারে দোয়া ও ইফতার মাহফিল করার ঘোষণা দিয়ে সফরসূচি প্রকাশ করেন কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীরা। এরপর দুই পক্ষের গ্রুপিং ও দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিতে শুরু করে। কর্নেল গ্রুপ দাবি করে, সফরসূচি অনুযায়ী ১৪ মার্চ চিরিরবন্দর উপজেলার কারেঙ্গাতলী বাজারে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাদের নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা করেন আখতারুজ্জামান মিয়ার অনুসারীরা। ফলে দোয়া ও ইফতার মাহফিল স্থগিত হয়। সেই হামলার প্রতিবাদে আহত ব্যক্তিদের পরিবার ও এলাকাবাসীর ব্যানারে আজ সকালে খানসামা উপজেলার পাকেরহাট শাপলা চত্বরে মানববন্ধন করার ঘোষণা দেন কর্নেল গ্রুপের অনুসারীরা। এই মানববন্ধনে ঘোষণার পরই মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ও উপজেলা বিএনপিকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রকারী আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে ভিডিওবার্তায় একই স্থানে ও একই সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন আখতারুজ্জামান মিয়ার অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী বিএসসি, যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আলম তুহিন ও মোসলেম উদ্দিন সরকার।
কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি ডাকা হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী ও যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আলম তুহিন বিক্ষোভ সমাবেশে তাঁদের বক্তব্যে বলেন, আখতারুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে এই আসনে বিএনপিকে বিভক্তকরণের ষড়যন্ত্র ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি।
খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমূল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষকে পৃথক সময়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে আহ্বান জানানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার বলেন, একই সময় ও একই স্থানে কর্মসূচি করতে বিএনপির দুই পক্ষকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আলাপ-আলোচনা বা সমঝোতা করে কর্মসূচি করতে বলা হয়েছে। এতে প্রশাসন ও পুলিশ তাদের সহযোগিতা করবে। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।





























