
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে খানিকটা স্বস্তি ফিরেছে সবজির দামে, তবে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না ভোক্তারা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে বেশিরভাগ সবজিই ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ৬০-৭০ টাকায় বেশিরভাগ সবজি মিললেও, তা এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কয়েক সপ্তাহ আগেও এসব সবজির দাম ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে। ফলে আপাতত স্বস্তি মিললেও, বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর রামপুরা, মেরাদিয়া, চিটাগং রোডের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে, পটল ৫০-৬০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৫০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ঢেঁড়শ, চিচিঙ্গা ও শসার দামও ৫০-৬৫ টাকার মধ্যে। তবে কাঁচামরিচ এখনও ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, যা সাধারণ ভোক্তার মাথাব্যথার অন্যতম কারণ।
এদিকে কোনো কোনো বাজারে দেশি লালশাক ও পুঁইশাক ১৫-২৫৫ টাকা আঁটি দরে পাওয়া গেলেও পেঁয়াজ, রসুন ও আলুর দামে এখনও তেমন স্বস্তি আসেনি।
ক্রেতারা বলছেন, পূর্বের তুলনায় কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের প্রতিদিনের রান্নায় এসব পণ্য অপরিহার্য, তাই দাম কমলেও চাপ থেকে যায়।
একজন গৃহিণী জানান, সবজির দাম একটু কমেছে ঠিক, কিন্তু তা এখনো আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য অনেক বেশি। প্রতিদিন রান্নার জন্য ন্যূনতম তিনটা সবজি নিতে হয়, তাতেই প্রায় পাঁচ-ছয়শ টাকা খরচ।
বিক্রেতারা বলছেন, কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, টানা বৃষ্টির কারণে পুরোপুরি দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি বাজারে পাইকারি সিন্ডিকেটের প্রভাবকেও অস্বীকার করছেন না কেউ কেউ।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে স্বস্তি আনতে হলে সরবরাহ চেইনের জবাবদিহিতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সাময়িক স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
বর্তমানে সবজির বাজারে আংশিক স্বস্তি থাকলেও অস্থিরতা এখনো কাটেনি পুরোপুরি। সরকারি নজরদারি বাড়ানো না হলে এবং সরবরাহ চেইনে ভারসাম্য না ফিরলে স্বস্তি আবারও অস্বস্তিতে রূপ নিতে সময় লাগবে না।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে আংশিক স্বস্তি ফিরেছে ঠিক, তবে তা যদি সরবরাহ নির্ভর হয়, তাহলে তা ক্ষণস্থায়ী। মৌসুমের ভিত্তিতে দাম বাড়বে-কমবে—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আনতে হলে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
তারা বলছেন, সরকারিভাবে সরবরাহ চেইনে নজরদারি এবং কৃষকের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যে নীতিমালা তৈরি না করা হলে এই অস্থিরতা ঘন ঘন ফিরে আসবে।







































