
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনে তাকবির আহমেদকে (২২) হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই যুবক জানিয়েছেন—মাদক সেবনরত অবস্থায় অনলাইন জুয়ার টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে তাঁরা তাকবিরের বাবার কাছে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করেন। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাশেদ।
তদন্ত সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাকবির আর ফিরে আসেননি। পরদিন দুপুরে স্থানীয় লোকজন পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষে তাঁর মৃতদেহ দেখতে পান। মাথায় ইটের আঘাতের চিহ্ন ছিল। পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহজনক ফোনকল, অবস্থান ও চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করে। এরপরই বেরিয়ে আসে ঘটনার মূল কারণ।
গ্রেপ্তার আসামি মো. হারুন (৩৪) ও মো. রফিকুল (৩৮) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন—সেদিন তাঁরা তিনজনই মাদক সেবন করছিলেন। মাদকাসক্ত অবস্থায় অনলাইন জুয়ার বেটিং নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে তাকবিরের সঙ্গে সংঘাত বাধে। পরে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকবিরকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তাঁরা তাকবিরের মোবাইল ফোন লুকিয়ে রেখে তাঁর বাবাকে একটি পুরোনো সিমকার্ড ব্যবহার করে কল দিয়ে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন, যাতে ঘটনাটি অপহরণ বা আর্থিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়।
পিবিআই জানায়, ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ছয়টায় সোনারগাঁয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে প্রথম আসামি হারুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যা সাতটায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়াপদা কলোনী এলাকা থেকে রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রফিকুলের বাড়ির সিলিং থেকে তাকবিরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, ‘এটি একটি ক্লু-লেস হত্যা ছিল। প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও দ্রুত সমন্বিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। হত্যার পেছনে অনলাইন জুয়া ও মাদকাসক্তি প্রধান কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে।’
পরদিন গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআই জানায়, মামলার আরও কিছু দিক পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।





























