
মো. আল আমিন, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
বাড়ির সামনে খেলাধূলা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু রৌজা মনি। পাঁচ দিন পর পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চরমারিয়া এলাকার হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচিটি পালন করা হয়।
এসময় 'নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে'র ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান বক্তারা।
এতে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাইল মিয়া, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব ওবায়দুল্লাহ ওবায়েদ, সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য এ.বি. ছিদ্দিক, জেলা সিভিএ (বিদ্যুৎ) সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম সবুজ, জিনারাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক হাফেজ মো. রফিকুল ইসলাম সবুজ, জেলা আইনজীবী সমিতির শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো. এনায়েত উল্লাহ ও নিহত শিশু রৌজা মনির বাবা সুমন মিয়া।
নিহত রৌজা মনির বাবা সুমন মিয়া বলেন, "গত ৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে আমার মেয়ে রৌজা মনি খেলার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে কোথাও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা আত্মীয়-স্বজনসহ সন্দেহজনক জায়গা ও আশপাশের পুকুর-ডোবায় কয়েক দফা তল্লাশি করেও আমার মেয়ের কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে আমার মেয়ের খোঁজ পেতে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিও করি। কিন্তু কোনো খোঁজই পাইনি আমার মেয়ের।"
তিনি আরও বলেন, "১১ জুলাই সকালে মারিয়া এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে আমার ৬ বছর বয়সী মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়। আমি আমার মেয়ের প্রকৃত হত্যাকারীদের কঠোর ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। আমি চাই আমার মেয়ের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ ফাঁসি হোক।"
জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাইল মিয়া বলেন, "একটি ৬ বছরের শিশু রৌজা মনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে আজ রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে, এর চেয়ে লজ্জাজনক ও দুঃখজনক আর কী হতে পারে? প্রশাসন এতটা উদাসীন ও দুর্বল হয়ে পড়েছে কেন, সেটাই এখন আমাদের বড় প্রশ্ন! যদি রৌজা মনির হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হয়, তাহলে তার ছোট ছোট বন্ধু-বান্ধবরা কী শিখবে? তারা কি ভাববে, এই দেশে খুনিদের কোনো বিচার হয় না? তাই আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি, অতি দ্রুত রৌজা মনির হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।"
জানা যায়,চলতি বছরের ৬ জুলাই শিশু রৌজা মনি বিকেলে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর তার পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের পাঁচদিন পর অনেক খোঁজাখুঁজি শেষে মারিয়া এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থানায় মামলা হলে পুলিশ সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করলেও উচ্চ আদালত তাদেরকে জামিন দেয়। নিহত শিশু রৌজা মনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের চরমারিয়া গ্রামের সুমন মিয়ার মেজো মেয়ে।





























