
আমজাদ হোসেন,আনোয়ারা(চট্টগ্রাম):
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দেয়াঙ পাহাড়সংলগ্ন লোকালয়ে খাবারের সন্ধানে হানা দিচ্ছে বন্যহাতি।গুঁড়িয়ে দিচ্ছে বসতবাড়ি, নষ্ট করছে ফসলি জমি। হাতির আক্রমণে কৃষকরা যেমন ক্ষতির মুখে পড়ছেন তেমনি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়ে আতঙ্কে আছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, খাবারের সন্ধানে দেয়াং পাহাড় থেকে লোকালয়ে নেমে আসছে অন্তত তিনটি বুনো হাতি। হাতিগুলো রাতে এসে ভোরে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত লোকালয়ে তাণ্ডব চালায়। হাতিগুলো এখান থেকে ওখানে ছুটতে থাকে। আর স্থানীয়রাও হাতিগুলোর পিছু নেয়। এ অবস্থায় হাতিগুলো নিয়ে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে।গত ৭বছরে হাতি আক্রমণে মারা গেছে অন্তত ১৪জন নারী-পুরুষ,আহত হয়েছে শতাধিক লোক।ভাঙচুর ও তাণ্ডবে শতাধিক বাড়িঘরসহ কয়েক কোটি টাকার ফসলি জমি, ধানক্ষেত ও দোকানঘরের ক্ষতি হয়।প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও থানায় অভিযোগও করেন। তবে বনবিভাগ বলছে, বন্যপ্রাণীর আবাস্থল মানুষ দখলে নেওয়ায় তারা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।
সূত্রে জানা যায়, গত ৫-৭ বছর আগে বাঁশখালীর পাহাড় থেকে একটি হাতির দল এসে আনোয়ারা দেয়াং পাহাড়ে অবস্থান নেয়। দেয়াং পাহাড়ে বিভিন্ন কারখানা স্থাপনের কারণে পাহাড় কাটায় খাদ্যের অভাবে হাতিগুলো সন্ধ্যা হলেই আনোয়ারার বারশত কবিরের দোকান, পশ্চিমচাল, কান্তিরহাট, বটতলী জয়নগর, ছিরাবটতলী, গুচ্ছগ্রাম, জয়নালপাড়া, বৈরাগ ইউনিয়নের দেয়াং বাজার, উত্তর গুয়াপঞ্চক, মধ্যম গুয়াপঞ্চক, খাঁনবাড়ী, মোহাম্মদপুর, বদলপুরা, বন্দর, বারখাইন ইউনিয়নের হাজিগাঁও গ্রামে এবং কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠানের খিলপাড়া, খতিবপাড়া, মাইজপাড়া, দৌলতপুর, দক্ষিণ শাহমীরপুর এলাকায় লোকালয়ে প্রবেশ করে প্রাণহানী ও বাড়িঘর ভাঙচুর চালিয়ে ফসল নষ্ট করে থাকে।
স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে দেয়াঙ পাহাড়ে দলছুট বন্যহাতির পাল বিচরণ করছে। দিনের বেলায় হাতির পালটি পাহাড়ের জঙ্গলে থাকলেও রাত হলেই লোকালয়ে নেমে আসে। হাতির পাল প্রায় সময় পাহাড়সংলগ্ন গ্রামগুলোর কোনো না কোনো এলাকায় তান্ডব চালায়। তাই হাতি-আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। দেয়াং পাহাড়ের বন উজাড় করে মিল- কারখানা স্থাপনের ফলে এসব বন্য প্রাণী খাবার সংকটে পড়ে বাধ্য হয়ে লোকালয়ে ঢুকছে।গত সাত বছরে আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলায় হাতির আক্রমণে অন্তত ১৪জন নারী-পুরুষ মৃত্যু হয়েছে।
তারা হলেন বৈরাগ খোসাল তালুকদারের বাড়ির আক্তার উদ্দিনের স্ত্রী রেহানা আক্তার(৪৮),উত্তর গুয়াপঞ্চক এলাকার শাহ্ আহমদ বাড়ির মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে আবুল কাশেম (৫৫), বড়উঠান এলাকার কৃষক মোহাম্মদ ছৈয়দ (৫৭), জালাল আহমদ (৭২), জুয়েল দাশ (৪৫), বড়ুয়াপাড়ায় মায়া রাণী বড়ুয়া (৬০), বৈরাগের মো বদরউদ্দিন (২৯), আবদুর রহমান (৭০), মো আকতার হোসেন চৌধুরী (৫০), হাজিগাঁও গুচ্ছগ্রামের মোমেনা খাতুন (৬৫), বটতলী এলাকার মোহাম্মদ সোলায়মান (৭০), আজিজ ফকির (৭০), মুহাম্মদ ছাবের আহম্মদ প্রকাশ রেনু (৭৮) ও তৈলারদ্বীপ এলাকার মো. আবদুল মোতালেব বাবুলসহ (৬৮) অন্তত ১৪ জন।হাতির আক্রমণ থেকে বাঁচতে এলাকার লোকজন সারা রাত মশাল জ্বালিয়ে পাহারায় বসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পরও বনবিভাগ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহেদ উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যার পর আমরা আতঙ্কে থাকি, এলাকার লোকজন মশাল জ্বালিয়ে পাহারায় বসে। বনবিভাগ চাইলে এই হাতি তাড়ানো সম্ভব। এখানে তো আগে হাতি থাকত না।
স্থানীয় বৈরাগ ইউপি চেয়ারম্যান মো. নোয়াব আলী জানান,প্রতিদিনই মানুষ হাতি আতঙ্কে রয়েছে, দেয়াং পাহাড়ের বন্যহাতির দলটি খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এসে কৃষকের ধান, বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত নষ্টসহ বসতবাড়ি ভাঙচুর চালায়। এই ইউনিয়নে আটজন মানুষ মারাও গেল। হাতির ভয়ে এখন রাতের ঘুম চলে গেছে এলাকাবাসীর। এ বিষয়ে বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।





























