
মোঃ আনিছুর রহমান (স্টাফ রিপোর্টার) ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মন্দিরের সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বুধবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে উপজেলার বাদে অরুয়াইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার মুখেই বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
এদিকে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অভিযোগকারি ব্যক্তি দৃশ্যমান খালের জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলেছেন। এতে খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকার কৃষকরা এতে বিপাকে পড়েছেন।
বেলা ২টার দিকে শ্রী শ্রী মোহনলাল জিউর মন্দির থেকে শত শত নারী-পুরুষের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলকারিরা দখল হয়ে যাওয়া জায়গায় গিয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সহিদ মিয়া ও তার লোকজন বাধা দেন। এক পর্যায় রোকন উদ্দিন নামে এক যুবক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভকারিদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। মুহুর্তেই ২০-২৫ জন এসে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। এতে অন্তত ১০জন আহত হয। তারা সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান।
মন্দির কমিটির নেতারা জানান, মন্দিরের জায়গা নিয়ে মামলা চলমান অবস্থায় প্রতিবেশি সহিদ মিয়া বালু ফেলে জায়গা দখল করে। এছাড়া খালের উপর মাটি ফেলেছে। মন্দিরের জায়গা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করতে গেলে হামলা চালানো হয়। রোকন নামে এক যুবক প্রথমে কয়েকজনকে উস্কে দিয়ে ঢিল ছুড়ে। পরে অন্যরা হামলা চালায়।
যাদব ঘোষ নামে গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, 'আমরা অসহায়। মানববন্ধন করতে এসেও এখন হামলার শিকার হতে হলো। আমরা এর বিচার চাই।'
সহিদ মিয়া অবশ্য বলেছেন, 'মন্দিরের জায়গায় তিনি মাটি ফেলননি। যেটি খাল দেখা যায় সেটি আসলে জমি। তাদের মানববন্ধনে আমরানহামলা করিনি। একটি চক্র এটার পিছনে কাজ করছে।’
অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন বলেন, 'জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। দুই পক্ষই নিজের জায়গা বলে দাবি করে। আদালতে মামলা চলমান বিধায় বিষয়টি মীমাংসা করা যায়নি। খাল দখল করতে সহিদ মিয়াকে নিষেধ করা হয়। দিনে না করলে রাতে তিনি খাল ভরাট করে ফেলে।





























