
ছোট নদী শ্রী। যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ‘ভবদহ’ অঞ্চলের ব্যাপক এলাকার পানি নিষ্কাশনে মুক্তেশ্বরী-টেকা-শ্রী-হরি-হরিহর-ভদ্রা-আপারভদ্রা-শিবসার মূল স্রোতোধারায় মাত্র সোয়া এক কিলোমিটার নদীটি। একসময়ের প্রমত্তা নদী। কিন্তু বুকে পলি পড়ে তীব্র নাব্য সংকটে এখন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার কপালিয়া গ্রাম আর খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চেঁচুড়ি গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা নদীটির বুকজুড়ে একসময় ছিল সবই। ছিল প্রচণ্ড ঢেউ আর খরস্রোত। ছিল পালতোলা নৌকা আর শত শত প্রজাতির মাছ। স্বাভাবিক নিয়মে শ্রী নদী দিয়ে এলাকার ২৭টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হতো। ধানকাটা মৌসুমে সোনালি রঙ ধারণ করত চারপাশের বিলগুলো। ধানে ধানে ভরে উঠত কৃষকের গোলা। কিন্তু সেই ছোট্ট শ্রী গত কয়েক বছর ধরে কৃষকের কাছে বড় দুঃখ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, লোনা পানি ঠেকিয়ে সবুজায়নের উদ্দেশ্যে ১৯৬২ সালে যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে ভবদহে শ্রী নদীর বুকে নির্মিত হয় ২১ ভেন্টের স্লুইসগেট। আর এতেই বাধাগ্রস্ত হয় জোয়ার-ভাটা। পলি জমে উঁচু হয়ে যায় নদীর বুক। হারিয়ে যায় চিরচেনা ঢেউ, পালতোলা নৌকার ঝাঁক, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ১৯৮৪ সাল থেকে বিলগুলোতে দেখা দেয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। চার যুগের বেশি সময় ধরে শ্রী নদীর পাড়ে বসবাস করছেন স্কুল শিক্ষক সনাতন রায়। তিনি বলেন, ২১ ভেন্ট থেকে কপালিয়া ব্রিজ পর্যন্ত মাত্র সোয়া কিলোমিটারের শ্রী নদীতে একসময় শ্রী (জল) ছিল। এখন নদী আছে কিন্তু শ্রী নেই। ব
উপজেলার পায়রা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম বলেন, ২০১৬ সালের আগেও নদীটি প্রায় ৩০০-৪০০ ফুট চওড়া ছিল। পাইলট চ্যানেল কাটার ফলে তা এখন ৪০-৫০ ফুটে দাঁড়িয়েছে। দশ বছর আগেও নদীতে ১৫-২০ হাত পানি ছিল। এখন সেখানে কোথাও হাঁটুপানি কোথাও কোমর পানি।
মণিরামপুর উপজেলার পাঁচাকড়ি গ্রামের প্রফুল্য বিশ্বাস বলেন, ১৯৭১ সালের পরও দেখেছি নদীটি ২০০-২৫০ ফুট চওড়া আর ২০-২৫ হাত গভীর। তখন নদী ছিল এলাকার মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন। আমাদের পরিবার চলত ঠাকুর দাদা, বাবার ধরা মাছ বিক্রির টাকায়। এখন নদী সরু খালে পরিণত হয়েছে।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালী জানান, ১৯৬২ সালে শ্রীর ওপর ভবদহ নামক স্থানে ২১ ভেন্ট স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। ফলে বাধাগ্রস্ত হয় জোয়ারভাটা। পলি জমে উঁচু হয়ে যায় নদীর বুক। ১৯৮৪ সাল থেকে একটানা ১৪ বছর এলাকায় দেখা দেয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। ঘেরমালিকদের বিরোধিতায় ২০১৩ সালের পর বিলে জোয়ারভাটার ব্যবস্থা (টিআরএম) চালু না হওয়ায় পলি জমতে জমতে শ্রী নদীর প্রাণ যায় যায় অবস্থা।





























