
তানজিল সরকারঃ ভৈরব কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেয়ের স্কুলের সভাপতির সাথে পরকীয়ার কথা জানাজানি হওয়ায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন পাঁচ সন্তানের জননী গৃহবধু নার্গিস বেগম সোমা (৩৫)
বতর্মানে নার্গিস বেগম সোমা জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
গত শনিবার বিকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
পরকীয়া প্রেমিক ইউনিয়নে পূর্বপাড়া গ্রামের বাঘাবাড়ির মৃত ময়েজ উদ্দিন মিয়ার ছেলে মো: জাকির হোসেন। জাকির হোসেন উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, শ্রীনগর কনফিডেন্স মডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, সেই সাথে শ্রীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক অভিবাভক প্রতিনিধি ।
ভোক্তভোগী নার্গিস বেগম সোমা একই ইউনিয়নের মুন্সীবাড়ির গোলাম হোসেন মিয়ার ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মো: ছিদ্দিক মিয়ার স্ত্রী এবং একই উপজেলার শিমুলকান্দী ইউনিয়নের গোছামারা গ্রামের মৃত সামসু মিয়া মেয়ে।
নার্গিস বেগম সোমা কয়েক বছর আগে জাকির হোসেনের প্রতিষ্ঠিত কনফিডেন্স মডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুলে এক মেয়েকে ভর্তি করান। মেয়ে স্কুলকে নিয়ে আসার সুবাধে পরিচয় হয় প্রতিষ্টানটি সভাপতি জাকির হোসেনের সাথে। সেই থেকে জরিয়ে পরেন পরকীয়া প্রেমে। জাকির হোসেনের সহযোগী হোসেন মিয়ার মোটরসাইকেলে ঘুরতে যান বিভিন্ন পার্ক ও রেস্টুরেন্টে।
পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জানতে পারেন প্রবাসী স্বামী ছিদ্দিক মিয়া ও আত্মীয়স্বজন। বাড়ে সংসারজীবনে কলহ ও অশান্তি। এক পার্যায়ে নার্গিস বেগম পরকীয়া প্রেমিক জাকির হোসেন কে না করে দেন পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে আর এগোতে চায় সে, পাঁচ সন্তান নিয়ে করবেন স্বামীর সংসার।
কিন্তু পরকীয়ায় আসক্ত জাকির হোসেন ছাড়তে রাজি না নার্গিস বেগম কে। করতে চান বিয়ে। এজন্য নার্গিস বেগমকে চাপ দিতে থাকে প্রবাসী স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে জাকির কে বিয়ে না করলে অতিতে করা আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার।
এক পর্যায়ে চাপ সইতে না পেরে গত ৮ মার্চ শনিবার বিকালে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন নার্গিস বেগম।
আগে তিনটি বিয়ে করা জাকির হোসেন পাঁচ সন্তানের জননী ও প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে এলাকা।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও কোন প্রকার মামলা না করতে প্রবাসী ছিদ্দিক মিয়ার পরিবার কে চাপদেন জাকির হোসেনের সহযোগী একই এলাকার ইসলাম মিয়ার ছেলে হোসেন মিয়া, সৈয়দ লাল মিয়ার ছেলে শুক্কুর মিয়া, চান মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া, ও আব্দুস সামাদ মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া। হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে কোনপ্রকার তথ্য দিলে ফলাফল ভালো হবে না বলে হুমকি পাওয়ার কথা জানান নার্গিস বেগম সোমার ছোট এরশাদ মিয়া
এ বিষয়ে জাকিরের সহযোগী হোসেন মিয়া মুটোফোনে জানান প্রবাসী ছিদ্দিক মিয়ার সাথে তার স্ত্রী মোবাইলে ঝগড়া হয়, এই কারণে নার্গিস বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারে জানতে পেরেছি। প্রবাসী ছিদ্দিকের সাথে জাকিরের বন্ধুত্ব ছিল, তাই জাকির মাঝেমধ্যে ছিদ্দিকের স্ত্রীকে বাজার সধাই করে দিত। ছিদ্দিকের পরিবারের সাথে জাকির হোসেনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল এজন্যই তারা পরিকল্পিতভাবে অপ্রচার চালাচ্ছে।
এঘটনায় জাকির হোসেন ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরে ফোন কেটে সুইস অফ করে রাখেন। একাধিক বার ফোন করা হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এলাকাবাসী জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন তার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই আরো দুটি বিয়ে করেন। এখন পাঁচ সন্তানের জননীর সাথে পরকীয়া প্রেম জানতে পেরেছেন।
বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের নেতা ও গ্রামের বংশীয় লোক হওয়াই প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ ও আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন করলেও এলাকাবাসী তার ভয়ে কিছু বলতে পারেনা।
এলাকাবাসী আরও জানান, জাকির হোসেনের বোন ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামীলীগ সভানেত্রী কবিতা খনমও একাধিক পরকীয়া প্রেমে আসক্ত ছিলেন, জাকিরও সুযোগ পেলেই একাধিক পরকীয়া গোপন অভিসারে মিলিত হতেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। বিষয়গুলো এলাকাবাসীর দৃষ্টিগোচর হলেও ভাই - বোনের ক্ষমতার দাপটে কিছু বলতে পারতেন না।
এ ব্যাপারে প্রবাসী ছিদ্দিক মিয়া তার এক চাচাতো ভাই জানান ঘটনার পর থেকেই ছিদ্দিককে মামলা বা কোন প্রকার ঝামেলা না করতে ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যদি এই ঘটনায় কোন ঝামেলা হয় তা হলে তার সন্তানদের বিপদ হবে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট আবুল বাশার বলেন, আমি পেশাগত কাজে কিশোরগঞ্জ শহরের থাকি, জাকির হোসেনের ঘটনা লোকমুখে শুনেছি। জাকিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান বতর্মান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেতাকর্মীদের নিয়ে কোন সভা করা সম্ভব নয় আমি একা চাইলেইতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারব না।
শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন আমি বিষয়টি আপনাদের ( সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানলাম, ঘটনাটি সামাজিক নৈতিকতা চরম অবক্ষয়ের নিম্নস্তরের নিয়ে গেছে। তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
এ ঘটনায় ভোক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানানো হয়।





























