
সোহেল রানা তালতলী প্রতিনিধি:
বরগুনার তালতলীতে প্রশাসনিক সহযোগিতায় ডাকাতের ভয়ে পালিয়ে যাওয়া চন্দনতলার সংখ্যালঘু ১৪ টি হিন্দু পরিবার পুণরায় বাড়ি ফিরেছেন।
রবিবার (১৮ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের চন্দনতলা মাদ্রাসায় এক সম্প্রীতিক সভার মাধ্যমে তারা বাড়িতে ফিরে যান।
জানা যায় ওই এলাকার রশিদ নামে এক লোক ও তার দলবল বহু বছর ধরে সংখ্যালঘু ঐ হিন্দু পরিবারগুলোকে নানাভাবে হয়রানি চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও জিম্মিকরে টাকা আদায়করাসহ বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। এতে এক পর্যায়ে হিন্দু পরিবারগুলো অসহায় হয়ে পড়ে। বিষয়টি প্রশাসনিক নজরে এলে ঐ গ্রামে একটি পুলিশ ফাঁড়ির ব্যবস্থা করা হয়।
গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেশের আইন-শৃঙ্খলার দেশ অবনতি ঘটে। আর সেই সুবাদে ফাঁড়িতে পুলিশ না থাকার কারণে জেগে ওঠে রসিক বাহিনী শুরু হয় ফোনের মাধ্যমে ভয় ভীতি প্রদর্শন। অন্যদিকে সারা দেশে শুরু হয়ে যায় ভাঙচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এর মত বিভিন্ন নৈরাজ্য। এতে সংখ্যালঘু পরিবারগুলো ভয় পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আইনের আশ্রয় চায়ে তেমন সাড়া না পেয়ে বাড়িঘর ত জেলা শহর বরগুনায় চলে যায়। এ সময় ১৪ টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও পশু পাখি অনিরাপদ হওয়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় মাদ্রাসার ছাত্র ও চকিদারদের মাধ্যমে তাদের ঘরবাড়ি পাহারাদার ব্যবস্থা করা হয়। আর সে থেকেই ধারাবাহিকভাবে এভাবেই পাহারা দেয়া হয়েছে।
রোববার বিকেলে প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সম্প্রীতিক সভার মাধ্যমে পুনরায় তাদেরকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ার তুম্পা এর সভাপতিত্বে উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অমিত দত্ত, আমতলী ও তালতলী থানা সার্কেল এসপি, তালতলী থানা অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শহিদুল ইসলাম, বিএনপি যুগ্ন আহবায়ক মামুন, বিএনপি নেতা সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা জামাতের আমির আব্দুল মান্নান, হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের জেলা সমন্বয়ক, শিক্ষক এলাকার গণ্যমান্য ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি গান।
এসময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা প্রত্যেকটি মানুষের জন্য বাংলাদেশ। এখানে মুসলিম, হিন্দু বৈদ্ধ-খ্রিস্টান বলতে কোন ভেদাভেদ নেই। সংখ্যালঘু হিসেবে তাদের উপর যদি কেউ আক্রমণ করতে আসে আমরা সবাই মিলে তাকে প্রতিহত করব।
হিন্দু পরিবারের পক্ষ থেকে যাদব বাবু বলেন, মোবাইল ফোনে বিভিন্ন হুমকি আসার পরে প্রশাসনিক সহযোগিতা চাই।সহযোগিতা না পেয়ে প্রাণ বাঁচাতে আমরা বাড়ি ছেড়ে চলে যাই। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম, স্থানীয় ও প্রশংসনীক সহযোগিতায় আমরা আবার বাড়িতে ফিরে এসেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ার তুম্পা বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের সুযোগ সুবিধা ভোগ করার অধিকার রয়েছে। সে মুসলিম,হিন্দু কিংবা অন্য জাতির হোক। বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ এখানে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলাকারীর কোনো স্থান নেই। আপনারা নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরুন কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে আমরা আইনিভাবে তার পদক্ষেপ নিব।





























