
সোহেল রানা তালতলী প্রতিনিধি:
বরগুনার তালতলীর অগ্রণী ব্যাংকের মধ্য থেকে সালমা(৩০) নামের এক প্রবাসী নারীর ২৬০০০/টাকা নিয়ে উধাও এক প্রতারক চক্র। ভুক্তভোগী সালমা উপজেলার লাউপড়া গ্রামের আমির হোসেনের কন্যা।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর)সকাল ১০টার দিকে তালতলী বাজার অগ্রণী ব্যাংক শাখায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগী সালমা । সদ্য প্রবাস থেকে ফিরে আসা ঐ নারী ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি দৈনিক আলোকিত সকলকে জানান, আমি সকাল দশটার দিকে পঞ্চাশ হাজার টাকার একটি চেক নিয়ে অগ্রণী ব্যাংকে আসি, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ব্যাংকের মধ্যেই চেয়ারে বসে টাকা গুনে যাচাই করে নিচ্ছিলাম।ঐ সময় আমার পাসের চেয়ারে বসে একজন বয়স্ক লোক টাকা গুনতেছিলো। আমার টাকাগুলো ৫০০ টাকার নোট এবং তারগুলো ১০০০ টাকার নোট ছিলো, ঠিক ঐ সময় অন্য এক লোক এসে বলে আপনার ভাংতি টাকাগুলো ওনাকে দিন এবং উনার ১০০০ টাকার নোটগুলো আপনি নিন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১০০০ টাকার বান্ডিলটি আমার হাতে দেয় এবং আমাকে গুনতে বলে। আমিও গুনতে থাকি গুনে দেখি পঞ্চাশ হাজার টাকাই আছে। সাথে সাথে ওই বান্ডিল টি আবার সে নিয়ে যায় এবং আমার ৫০০ টাকার বান্ডিলটি তাকে দিতে বলে, তখন আমি আমার টাকার বান্ডিলটি তার হাতে দেই এবং তার এক হাজার টাকার বান্ডিল টি আমাকে দিয়ে আমার ব্যাগে রেখে দিতে বলে। আমি টাকা নিয়ে ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় টাকার বান্ডিল টি ছোট ছোট মনে হলে পুনরায় গুনে দেখি ২৪ হাজার টাকা আছে বাকি ২৬ হাজার টাকা নেই। তখন আবার ব্যাংকে ঢুকে কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা আমার কথা শুনছে না, এমন ভান করছে যে আমার কথা শোনার মত সময় তাদের হাতে নেই। সিসি ক্যামেরার আলতাভুক্ত ব্যাংক রুমের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে তাই আমি সিসি ফুটেজ দেখতে চাইলে তারা বিভিন্ন বাহানা করে একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে আমি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
তালতলী শাখা অগ্রণী ব্যাংক ম্যানেজার মোঃআলআমিন বলেন, সিসিটিভির মনিটরে একটু সমস্যা হয়েছে তাই তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ফুটেজ দিতে পারিনি চেষ্টা করছি ফুটেজ বের করার। তিনি বলেন গ্রাহকরা আমাদের কাছ থেকে টাকা বুঝে নেয়ার পরে টাকা হারালে আমরা দায়ী নই।
উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মেনিপাড়া গ্রামের মরিয়ম (৪৫)নামের এক নারী বলেন, ঐ ব্যাংক থেকেই কয়েক বছর আগে ঠিক একইভাবে আমার কাছ থেকেও ৫০০০০ টাকা নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগও করেছিলাম কিন্তু সিসি ক্যামেরার অস্পষ্ট ফুটেজের কারণে চোরকে সনাক্ত করা কিংবা টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান ঐ অগ্রণী ব্যাংক থেকেই এর আগেও এরকমই একাধিক ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যেক বারই সিসি ক্যামেরার ফুটেজের তরুটির কারণে চোর চক্র শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নামে মাত্র সিসি ক্যামেরা, কাজে ভালো ফলাফল না পাওয়ায় হতাশ গ্রাহকরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের ধারণা চোর চক্রের সাথে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্পর্ক থাকতে পারে। এ বিষয়ে তালতলী থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃশহিদুল ইসলাম খান বলেন, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলতেছে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





























