
অবলম্বন করে রমরমা মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধী চক্র। বিভিন্ন কৌশলে সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক সংগ্রহ করে রাজধানীতে নিয়ে আসা হচ্ছে। সেখানে আনার পর সুন্দরী তরুণীদের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সন্দরী তরুণীদের গ্রেপ্তার করা হলেও
থেমে নেই মাদক কারবারিরা। বিশেষ করে গাঁজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবার মতো সর্বনাশা মাদকের বেশি চাহিদা রয়েছে। এর সাথে 'এলএসডি, 'ক্রিস্টাল মেথ, বা ‘আইসের' মতো মাদকের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। র্যাব সূত্র জানায়, চলতি বছর ফাতেমা, হালিমা, আসমাউল হুসনা নামে তিন বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সবজির আড়ালে ইয়াবা পাচার করত। গ্রেপ্তারের পর তিন বোনের হাতে থাকা শপিং ব্যাগে কচুর মুখির ভেতরে বিশেষ কায়দায় রাখা ১৮ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবার মূল্য ৫৬ লাখ টাকা বলে জানায় র্যাব। র্যাব আরো জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা আপন তিন বোন। তাদের মধ্যে ফাতেমা মাদক কারবারি ও পাচারের মূলহোতা। তারা মোট আট ভাইবোন। সবাই ইয়াবা কারবারের সাথে জড়িত। তারা ইয়াবা পাচারের সময় ছোট শিশু সাথে রাখত, যাতে কেউ সন্দেহ না করে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেন মনে করে পরিবারের সদস্যরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভ্রমণ করছে। শুধু তাই নয়, তারা মাদক বহনে অত্যন্ত দক্ষ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমস্ত চেকপোস্ট এড়াতে একটি অন্য পথ অনুসরণ করে ইয়াবা পাচার করত। কক্সবাজার থেকে চকরিয়া পর্যন্ত আসার পর পুলিশ ও অন্যান্য চেকপোস্ট এড়াতে ফাশিয়াখালী-লামা-আলীকদম-বিলছড়ি- লোহাগাড়া পথ অনুসরণ করত। শুধু ফাতেমা, হালিমা, আসমাউল হুসনার পরিবারই নয়, তাদের মতো হাজার হাজার তরুণী মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েছে। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কায়দা বদলে তারা রাজধানীতে ঢোকাচ্ছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য।
একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, মাদক ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু পাল্লা দিয়ে চোরকারবারিরা রাজধানীতে মাদকের চালান নিয়ে আসার কৌশল বদলাচ্ছে। তাই সীমান্ত দিয়ে মাদকের চালান আসা যেন বন্ধ হয়, সে বিষয়ে কাজ করতে হবে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশে মাদকসেবীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষর্থীরা মাদক সেবন করছেন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষও নিয়মিত মাদক সেবন করছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, রাজধানী ঢাকায় কোনো মাদক তৈরি হয় না । নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে মাদক ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। দেশের সীমান্ত এলাকা থেকে আসা মাদক নিয়মিত অভিযানে জব্দ করা হচ্ছে। এ ছাড়া মাদক সেবনকারী ও কারবারিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, রাজধানীর ঢাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া করে মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে চক্রের সদস্যরা। এতে সুন্দর তরুণী-তরুণীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার কোনো এলাকায় সুন্দর তরুণীরাও বাসা বা ফ্ল্যাট ভাড়া করে কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের কারবার। চলতি বছর এমন এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গ্রেপ্তারকৃত তরুণী মাদক কারবারির নাম মঞ্জিলা আক্তার ওরফে নুপুর (২৫)। নুপুর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানা এলাকার নাকুরগাছী গ্রামের বাবু সরকারের মেয়ে। সে টঙ্গীর দত্তপাড়া ওসমান গনি রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থেকে মাদক কারবার করত।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে সুন্দরী তরুণীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠায়। আবার অনেকেই ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বন্ধুত্ব তৈরি করে। পরে সময় করে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে।
এক পর্যায়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওইসব হোটেল বা স্পা সেন্টারে নিয়ে যায় টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে। সেখানে গিয়ে মাদক সেবনসহ নানা অপকর্ম করে। এসময় গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে অনেকের ছবিও তুলে রাখা হয়। তবে মাঝে মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টারে অভিযানের নামে আইওয়াশ করা হলেও বিউটি পার্লার, বিভিন্ন আবাসিক ভবন, আবাসিক হোটেলে নিরাপদেই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে অপরাধী চক্রের সদস্যরা।
সূত্র মতে, রাজধানীর অভিজাত ও জনবহুল এলাকায় আবাসিক ভবনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মাদক কারবার পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, বনশ্রী, মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকা, শ্যামলী, মিরপুর, বারিধারা, উত্তরা এলাকায় রমরমা মাদক কারবার চলছে। এসব আস্তানায় বেশির ভাগ স্কুল - কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে নিরাপদে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণেআড লিপ্ত হচ্ছেন তারা। রাজধানীতে এসব কাজে জড়িত প্রায় শতাধিক চক্র রয়েছে। একটি একটি চক্রে আট থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে। আর ওই চক্রের সদস্যরা নতুন নতুন কৌশলে মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কৌশলী মাদক সেবনকারী ও কারবারিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর রয়েছে।
এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত দেশে ২৪ ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ ধরনের মাদকের চাহিদা বেশি রয়েছে। ভয়াবহ এসব মাদকের মধ্যে রয়েছেড় ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, গাঁজা, চোলাই মদ, দেশি মদ, বিদেশি মদ, বিয়ার, রেক্টিফাইড স্পিরিট, ডিনেচার্ড স্পিরিট, তাড়ি, প্যাথেডিন, বুপ্রেনরফিন (টিডি জেসিক ইঞ্জেকশন), ভাং, কোডিন ট্যাবলেট, ফার্মেন্টেড ওয়াশ (জাওয়া), বুপ্রেনরফিন (বনোজেসিক ইঞ্জেকশন), মরফিন, আইস পিল, ভায়াগ্রা, সেনেগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ও মিথাইল-ইথাইল কিটোন ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ের (উত্তর) সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেন, 'মাদক কারবারি ও সেবনকারীরা কৌশল পরিবর্তন করাটাই স্বাভাবিক । তবে কৌশল পরিবর্তন করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও নতুন নতুন প্রযুক্তি ও সোর্স ব্যবহার করে তাদের আইনে আওতায় আনছে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতির কারণে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থেকে মাদক আসছে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আরো কঠোর হতে হবে। যাতে মাদক
সহজলভ্য না হয়।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে। তাদের সন্তানের পকেট খরচ বেড়ে যাচ্ছে না কি, বেশি রাতে বাড়ি ফেরে না কি, নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে না কি, দেরি করে ঘুম থেকে উঠে না কি ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি নজর রাখতে হবে। পিতা-মাতাকে সন্তানের বেশি করে সঙ্গ দিতে হবে।' সম্প্রতি চট্টগ্রামের পাহাড়ি মাদকচক্রের শতাধিক ব্যবসায়ীর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তারা ভিন্ন বেশে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবসা করছে। মাদকদ্রব্যের বাহকরা খাওয়া খরচ ও যাতায়াত ভাড়াসহ পাচ্ছে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। ডিবি সূত্রে এসব তথ্য
জানা গেছে।
ডিবি জানায়, সম্প্রতি হাতিরঝিল থানাধীন পেয়ারাবাগ ও বড় মগবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকচক্রের অন্যতম সদস্য ডিপু চাকমাসহ আরো দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অপর দু'জন হলেন আপেল বড়ুয়া ও মোমিন হাওলাদার। তাঁদের কাছ থেকে ১৬ হাজার পিস ইয়াবা, তিনটি মোবাইল ফোনসেট, একটি ব্যাকপ্যাকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। ডিপু চাকমা বৌদ্ধ পুরোহিতের বেশে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার আদর্শ বৌদ্ধ বিহারের প্রধান পুরোহিত। আপেল বড়ুয়া শীর্ষ পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ী। তিনিও বৌদ্ধ ভিক্ষুর বেশে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। ডিপু চাকমার অন্যতম সহযোগী তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রামের গহিন অরণ্যে তাঁদের আস্তানা রয়েছে।
এ ব্যাপারে ডিবির লালবাগ বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক) মশিউর রহমান বলেন, ডিপুর সঙ্গে মিয়ানমারসহ বাংলাদেশের কোন কোন ইয়াবা ব্যবসায়ীর সম্পর্ক রয়েছে, বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। তাঁর সঙ্গে বৌদ্ধ ভিক্ষুর বেশে আরো যাঁরা মাদক ব্যবসা করছেন, তাঁদের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।
যেভাবে সক্রিয় পাহাড়ি চক্র
ডিপু চাকমার দেওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ডিবি জানায়, একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কেউ সন্দেহ করবে না, এই সুযোগটাকে মাদক ব্যবসার কাজে লাগান তিনি। ভিক্ষুর বেশে তিনি কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান থেকে ইয়াবা বহন করে ঢাকায় নিয়ে আসতেন ।
ডিবি সূত্র জানায়, এই চক্রে শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বৌদ্ধ ভিক্ষুর বেশধারী রয়েছেন অনেক। তাঁরা নিয়মিত হাজার হাজার পিস ইয়াবা ঢাকায় এনে সহযোগী মোমিন হাওলাদারের কাছে পৌঁছে দিতেন। পরে এগুলো বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় পাঠানো হতো। গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে ঢাকায় ইয়াবা এনে বিক্রি করছিলেন। সম্প্রতি ডিবির কাছে তথ্য ছিল, মগবাজারে পার্বত্য অঞ্চল থেকে মাদকদ্রব্যের চালান আসছে। এর ওপর ভিত্তি করে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে যা জানিয়েছেন ডিপ
ডিবি সূত্র জানায়, ডিপু ২০১৫ রাঙামাটি রাজবিহার পালি কলেজে ভর্তি হন । সেখান থেকে পালি শাস্ত্রে পাঁচ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি দীক্ষা নেন পুরোহিত হওয়ার। পরেন কঠিন চীবর ও গেরুয়া বসন। বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন শেষে চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানাধীন বৌদ্ধ বিহারের প্রধান হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরে যান খাগড়াছড়ি জেলা সদরে। সেখান থেকে বদলি হয়ে সর্বশেষ খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি থানাধীন আদর্শ বৌদ্ধ বিহারের প্রধান হিসেবে দুই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০১৬ সালে ভারতের মিজোরামের বৌদ্ধ ভক্তবৃন্দের আমন্ত্রণে রাঙামাটির বরকল-হরিণা সীমান্ত হয়ে বিএসএফের অনুমতি নিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই ভারতে যান তিনি। সেখানে ১২ দিন অবস্থান করে একই পথে একইভাবে দেশে ফিরে আসেন। ২০১৯ সালে খাগড়াছড়ির পানছড়ির সীমান্ত দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যান তিনি। সেখানে আট দিন অবস্থান করে একই পথে একই কায়দায় দেশে ফিরে আসেন। ডিবির তথ্য মতে, খাগড়াছড়ি জেলা সদরে থাকাকালে মোবাইল ব্রাউজিং করতে করতে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হন ডিপু। এক পর্যায়ে সর্বস্বান্ত হয়ে ইয়াবা ব্যবসায় নামেন। এরপর একটি চক্র গড়ে তোলেন তিনি। ঢাকায় সক্রিয় পাঁচ হাজার মাদক ব্যবসায়ী
ঢাকায় বর্তমানে এলাকাভিত্তিক প্রায় পাঁচ হাজার মাদক কারবারি রয়েছেন। ২০২১ সালে যা ছিল সাড়ে তিন হাজার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে
এসব তথ্য জানা যায়।
এসব মাদক ব্যবসায়ীর বেশির ভাগ ইয়াবা কারবারে যুক্ত। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে প্রতিদিন বিক্রি হয় ১৫ লাখ ইয়াবা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানা গেছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ ধরনের মাদকের মধ্যে বেশি বেচাকেনা হয় ইয়াবা। প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ইয়াবা বিক্রি হয়। রাজধানীতে সর্বাধিক ইয়াবা বেচাকেনা হয় মোহাম্মদপুর ও পল্লবীর জেনেভা ক্যাম্পে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ২০২৩ সালে সারা দেশে ৯৭ হাজার ২৪১টি মাদকসংক্রান্ত মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার ২৮৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে মাদকসংক্রান্ত ৮২ হাজার ৫০৭টি মামলা বিচারাধীন।
ভারতের গুজরাট উপকূলের কাছে উদ্ধার রেকর্ড পরিমাণ মাদক ভারতের পোরবন্দর উপকূলে যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩,৩০০ কেজি মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী ও নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। নৌবাহিনী বলছে, এই অভিযানে ৩০৮৯ কেজি চরস, ১৫৮ কেজি মেথামফেটামিন বা মেথ এবং ২৫ কেজি মরফিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি ওই অভিযানের কথা ভারতীয় নৌবাহিনী সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে। বৃহত্তম মাদক উদ্ধার অভিযান
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো, ভারতীয় নৌবাহিনী ও গুজরাট পুলিশকে এই অভিযানের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। গুজরাটের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংভি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে এই অভিযান মাদকমুক্ত ভারতের প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
গুজরাটে মাদক কোথা থেকে আসে?
গত কয়েক বছরে জাতীয় ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন এজেন্সি গুজরাট থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক বাজেয়াপ্ত করেছে। মাদক উদ্ধারের এইসব অভিযান মূলত চালানো হয়েছে কচ্ছ, জামনগর, সৌরাষ্ট্রের উপকূলবর্তী কয়েকটি এলাকা এবং দক্ষিণ গুজরাটের কিছু জায়গায়।
কচ্ছ এলাকার গান্ধীধাম থেকে কিছুটা দূরে মিঠি রোহর নামের একটি গ্রামের সমুদ্র তীর থেকে ২০২৩ সালে প্রায় ৮০ কেজি কোকেন উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ ।
এর আগে ২০২১ সালে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) মুন্দ্রা বন্দর থেকে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের তিন হাজার কেজি মাদক বাজেয়াপ্ত করেছিল ।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এত বড় বড় মাদকের চালান গুজরাট উপকূলে কীভাবে পৌঁছায় এবং কারাই বা এই মাদক চোরাচালানের প্রচেষ্টা চালায়? নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে গুজরাটে উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎপত্তিস্থল পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা ইরান।
অর্থ মন্ত্রকের গোয়েন্দা বিভাগ ডিরেক্টরেট অফ রেভেনিউ ইন্টেলিজেন্স, ডিআরআই সূত্রে খবর, তদন্তে আফগান নাগরিকদের নামও উঠে আসছে। আফগানিস্তানে ক্ষমতার পালাবদলের কারণেই মাদক চোরাচালান বেড়েছে কি না, সেদিকে নজর রাখছে এজেন্সিগুলো ।
আফিম চাষী ও চোরাকারবারিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি তালেবানের আয়ের একটি বড় উৎস।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত দপ্তরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মোট আফিম উৎপাদনের ৮০ শতাংশই হয় আফগানিস্তানে। সেই আফিমই পরিশোধন করে হেরোইন সহ নানা মাদক তৈরি করা যায়। ভারতের নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ গ্রাম পর্যন্ত হেরোইন ধরা পড়লে সেটিকে স্বল্প পরিমাণ' বলেই ধরে নেওয়া হয়। আবার, ২৫০ গ্রাম বা তার বেশি ওজনের হেরোইনকে 'বড় পরিমাণ' বলা হয়। এবং ওই চালান বিক্রি করার জন্যই আনা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। কোকেন কী ধরনের শারীরিক ক্ষতি করে? বাংলাদেশে কীভাবে আসছে এই মাদক?
বাংলাদেশে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আফ্রিকার দেশ মালাউয়ির এক নাগরিকের কাছ থেকে আট কেজি তিনশ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়। পরে ওই ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে আফ্রিকান আরো তিনজন নাগরিকসহ ওই চক্রের পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এটাই এখন পর্যন্ত কোকেনের সবচেয়ে বড় চালান। যা মালাউয়ি থেকে ইথোপিয়া ও দোহা হয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই চালানের আর্থিক মূল্য একশো কোটি টাকার বেশি। এখন প্রশ্ন হলো কোকেন সেবনে কী ধরনের শারীরিক ক্ষতি হয়? কোকেন কোন ধরনের মাদক? কোকা পাতা থেকে তৈরি হয় মাদকদ্রব্য কোকেন
চিকিৎসকরা বলছেন, কোকেন মূলত উদ্দীপক মাদক। কোকেনের কারণে মানুষের শরীরে দুই ধরনের ক্ষতি হয়। স্বল্পমেয়াদে ও দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্যগত ও মানসিক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে কোকেন সেবনকারী ব্যক্তি । কোকেন গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা পরেও প্রস্রাবে এর উপস্থিতি থাকে। যা অন্য মাদকে থাকে না। এছাড়া অন্য মাদকসেবীদের চেয়ে কোকেনসেবীদের ২৪ গুণ বেশি হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থাকে।
কোকেন সেবনকারীর যেসব শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কোকেন সেবনকারীরা অতিরিক্ত উত্তেজনায় ভোগে। অতিরিক্ত কথাবার্তা বলে। নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়ে। নাক দিয়ে অনেক সময় রক্তপাত হয়।
কোকেনের প্রতিক্রিয়ায় ঘুম কমে যায়, ক্ষুধা মন্দাভাব হয়, ওজন কমে যায়। অতিরিক্ত কোকেন সেবনের ফলে হার্টবিট বেড়ে যায়, যা রক্ত সঞ্চালনে বাধা দেয়। ফলে হার্ট অ্যাটাক হয়। অতিরিক্ত কোকেন সেবনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। স্ট্রোকের মতো ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশে মাদক বিরোধী প্রচারণা করে এমন একটি সংগঠন মানস। এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. অরূপ রতন চৌধুরী
বলেন, “অন্য মাদকসেবীদের চেয়ে কোকেন সেবনকারীদের ২৪ গুণ বেশি হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থাকে। কোকেন এমন ধরনের মাদক যা সেবন করার ৯০ দিন পরও শরীরে যার উপস্থিতি পাওয়া যায়। ৯০ দিন পরও সেবনকারীর চুল পরীক্ষা করলে কোকেন সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়”। কোকেন সেবনকারীদের প্রথম পর্যায়ে অনেক সেবনকারী আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়ার কথা বলে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি তাদের বিষণ্ণতা, অবসন্নতার দিকে ঠেলে দেয়। চরম মাত্রায় সেবনকারীর মুড সুইং হয়, অনেক সময় বিপজ্জনক আচরণ করে।
কোকেন আসক্তদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিকিৎসকরা বলে থাকেন, এরা প্রচণ্ড পরিমাণে নোংরা হয়ে যায়, স্বাস্থ্যগত নানা বিষয় ভুলে যায়। নাকের মধ্যে সাদা পাউডারের মতো কোকেনের পাউডার লেগে থাকে। আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হলো কোকেন সেবনকারীরা একাকী থাকতে পছন্দ করে, ফলে অসামাজিক হয়ে পড়ে। স্বভাবগতভাবে দুর্বিনীত হয়ে যায় এরা। এটি মিথ্যা কল্পনার জগতে নিয়ে যায় সেবনকারীকে। স্বল্পমাত্রায় কোকেন সেবন মাদকাসক্তদের তাৎক্ষণিক আনন্দ দিলেও এক সময় এডিকশানের দিকে চলে যায়। ফলে কোকেন নেয়ার মাত্রা বেড়ে যায়।
কোকেন দুইভাবে সেবন করে মাদকাসক্তরা। প্রথমত নাক দিয়ে টেনে নেয়
কিংবা সিগারেটের সাথে নেয় এবং দ্বিতীয়ত ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করা হয় শরীরে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন খান আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বলেন, “কেউ কেউ আবার হেরোইন ও কোকেন মিলিয়ে একটা আলাদা মিশ্রণ তৈরি করে। এটাকে বলে 'স্পিট বল'। কোকেন মস্তিষ্ককে উদ্দীপন করে আবার হেরোইন মানুষের নার্ভাস সিস্টেমকে বিষণ্নতায় ফেলে। এই দুইয়ের মধ্যে তারা একটা বিপরীতধর্মী প্রতিক্রিয়া পাওয়ার চেষ্টা করে”। “মস্তিষ্কে সবসময় কোকেনের চাহিদা তৈরি হয় ফলে তা না পেলে তাদের বিষণণতা বোধ তৈরি হবে। একসময় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তাদের আচরণ। যারা কোকেন নেয় তারা ধীরে ধীরে বিয়ার, অ্যালকোহল, ফেনসিডিলসহ অন্য ধরনের মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। "
অর্থাৎ কোকেন সেবনকারীরা 'পলিড্রাগ এবিউজার' এ পরিণত হয় বলে জানান মি. আজাদ।
কোকেন মূলত 'উদ্দীপক মাদক' হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কোকা পাতা থেকে কোকেন তৈরি হয়। এই পাতাকে পরিশুদ্ধ করে বেইজ তৈরি করা হয়। পরে অ্যামোনিয়া, সোডিয়াম বাই কার্বনেট বা সালফিউরিক এসিড এবং পানি দিয়ে এটি পাউডার হিসেবে তৈরি করা হয়।
দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে এই পাতার চাষ বেশি হয়। সেখান থেকেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এটি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দুইশ' আড়াইশ' ফুট উপরে কোকা পাতা উৎপাদন হয়।
জাতিসংঘের অপরাধ ও মাদক বিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি)র 'গ্লোবাল কোকেন রিপোর্ট ২০২৩ এ বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বিশ্বের মোট কোকেনের ৬১ শতাংশ কলম্বিয়াতে উৎপাদন হয়েছে।
এসময় পেরুতে ২৬ শতাংশ, বলিভিয়া ও আশেপাশের এলাকায় ১৩ শতাংশ কোকেন উৎপাদিত হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চিফ কেমিক্যাল এক্সামিনার দুলাল কৃষ্ণ সাহা জানান, বর্তমান ইরাক এক সময়ের মেসোপটেমিয়াতে কোকা পাতার উৎপাদন বেশি হতো। সে সময় মেসিডোনিয়ার রাখালরা তাদের ভেড়াগুলোকে মাঠে ছেড়ে দিতো। ওই পাতা ভেড়ার খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
আফিম চাষে আফগানিস্তানকে টেক্কা দিয়েছে মিয়ানমার
আফগানিস্তানকে টেক্কা দিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম আফিম উৎপাদনকারী দেশ এখন মিয়ানমার। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্যটি জানানো হয়েছে। এ বছর মিয়ানমারে আফিমের উৎপাদন ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১,০৮০ টন দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সংখ্যাটা আফগানিস্তানে উৎপাদিত আফিমের পরিমাণের (৩৩০ টন) চেয়ে অনেকটাই বেশি। গত বছর তালেবান ক্ষমতায় এসে মাদক নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর আফগানিস্তানে পোস্ত চাষ (যার নির্যাস থেকে আফিম তৈরি হয়) ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। এদিকে মিয়ানমারে ওই চাষ কিন্তু বেশ বেড়েছে। সেখানে গৃহযুদ্ধের আবহে আফিম চাষ আয়ের একটা লাভজনক উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হেরোইনের মত মাদকের মূল উপাদান হল আফিম। কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে এই চাষ হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই চাষ থেকে আসা টাকা যোগানো হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে লড়ে চলা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে।
গত এক বছরে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে তৈরি হওয়া গৃহযুদ্ধের জন্য চাষাবাদ আনুমানিক ১৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। চাষের জন্য সংগঠিত জমি, উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং কোন কোনও ক্ষেত্রে সারের ব্যবহারের কারণে এটা আরও পরিশীলিত' এবং উৎপাদনশীল হয়ে উঠেছে বলে জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ফসলের ক্রমবর্ধমান দামও আফিম চাষের দিকে কৃষকদের ঠেলে দিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। মহামারীর প্রকোপ এবং মিয়ানমারের ভয়াবহ অর্থনীতির অবস্থাও আফিম চাষকে কর্মসংস্থানের একটি নির্ভরযোগ্য এবং আকর্ষণীয় উপায়ে পরিণত করছে।
বিশ্বব্যাংকের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মিয়ানমারে তারা 'সামান্য বিকাশ' আশা করছে।
প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের শান কিন্তু সর্বদাই মিয়ানমারের বৃহত্তম আফিম উৎপাদনকারী রাজ্য। সামরিক বাহিনী এবং তিনটি সশস্ত্র জাতিগোষ্ঠীর জোটের সংঘাতের সাক্ষী থেকেছে এই রাজ্য। এমন কী এই সংঘাতের তীব্রতা শক্তিশালী মাফিয়া পরিবারগুলিরও পতনের কারণে।
এই মাফিয়াদের বিশাল সম্পত্তির মূলে ছিল জুয়া, 'স্ক্যাম সেন্টার এবং মাদক। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো কিন্তু এখনও আফিম বিক্রি থেকে আসা অর্থের উপর নির্ভর করে।
মি. ডগলাস জানিয়েছেন, শান এবং অন্যান্য সীমান্ত এলাকায় সংঘাতের তীব্রতা কিন্তু আফিম উৎপাদন আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আফিম চাষ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শান রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে, তারপরেই রয়েছে মিয়ানমারের চিন ও কাচিন রাজ্য, যেখানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। দারিদ্র্য, প্রত্যন্ত অঞ্চল, অনুর্বর জমি এবং অন্যান্য কারণে, আফিম চাষ দীর্ঘদিন ধরে শান রাজ্যের অর্থনৈতিকে বল জুগিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাকরি হারানো অনেক স্থানীয় মানুষ শান-এ ফিরে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁরা যেখানে তারা আফিম চাষের কাজ পেয়েছেন। মিয়ানমার থেকে এই বছর আনুমানিক ১৫৪ টন হেরোইন রফতানি করা হয়েছে। এর মূল্য প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার।
যে অঞ্চলে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং লাওসের সীমান্ত এসে মেশে, তাকে বলা হয় গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল । ঐতিহাসিকভাবে ওই অঞ্চলটি কিন্তু আফিম এবং হেরোইন উৎপাদনের মূল উৎস। বিশ্বজুড়ে বিক্রি হওয়া হেরোইনের বেশির ভাগের উৎস মিয়ানমার ও আফগানিস্তান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আফিম উৎপাদনে মিয়ানমার আফগানিস্তানকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। বাড়ছে মাদকের চোরাচালান
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ২১ কেজি ৯০ গ্রাম 'আইস' নামের মাদক জব্দ করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবি। এটি দেশটিতে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া আইসের সবচেয়ে বড় চালান যা 'ক্রিস্টাল মেথ' নামেও পরিচিত। এ সময় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী সম্প্রতি কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো এই মাদকটি 'মেথামফিটামিন' 'মেথ' বা ক্রিস্টাল মেথ' নামেও পরিচিত
মাদকের বিষয়ে বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি চালান জব্দ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
সম্প্রতি গোপন খবরের ভিত্তিতে টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীর জালিয়ার দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক কেজি ৬৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক জব্দ করে বিজিবি। নাফ নদীতে নৌকায় পাটাতনের নীচে এসব মাদক পাওয়া যায়। সে সময় চার জনকে আটক করা হয়। কেন বাড়ছে এই মাদকের চোরাচালান
স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো এই মাদকটি 'মেথাঅ্যামফিটামিন', 'মেথ', 'ক্রিস্টাল মেঞ্জ বা আইস – এরকম নানা নামে পরিচিত। আগে এর বাণিজ্যিক নাম ছিল পারভিটিন।
ফাউন্ডেশন ফর ড্রাগ ফ্রি ওয়ার্ল্ডের মতে, আইস সর্ব প্রথম তৈরি হয়েছিল। জার্মানির চেক সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে ১৮৮৭ সালে। এরপর তা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
এই মাদকটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উদ্ধার হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই সময় মাত্র ৫ গ্রামসহ একজনকে আটক করা হয়। যদিও মাদক সেবনকারীদের দাবি তারা ২০১৬ সাল থেকেই এর সরবরাহ পেয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিস্টাল মেথ সেবনকারী জানান, তারা ঢাকায় বসে ক্রিস্টাল মেথ পেয়ে থাকেন। তবে কক্সবাজার, টেকনাফ এবং সেন্টমার্টিনের মতো এলাকায় এগুলো পাওয়া সবচেয়ে সহজ। ২০১৬ সালে তিনি দক্ষিণের একটি জেলায় প্রথম এই মাদক গ্রহণ করেছিলেন। "
এই মাদকসেবী আগে ইয়াবা গ্রহণ করলেও এখন তার মতো অনেকের আগ্রহ বেড়েছে ক্রিস্টাল মেথের প্রতি।
এর কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, এটি ইয়াবার চাইতেও অতিমাত্রায়
উত্তেজক এবং এর প্রভাব কয়েকদিন পর্যন্ত থাকে। এসব কারণে ক্রিস্টাল মেথের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন। বিজিবি কর্মকর্তা মেহেদি হোসাইন কবির জানান, আগে তাদের কাছে ইয়াবা বেশি ধরা পড়লেও এখন তারা ক্রিস্টাল মেথের পাচার বাড়তে দেখছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে ক্রিস্টাল মেথ ইয়াবার চেয়ে অনেকগুণ বেশি ক্ষতিকর। কারণ ইয়াবায় যেখানে অ্যামফিটামিন নামে রাসায়নিক থাকে ৫% সেখানে ক্রিস্টাল মেথের পুরোটাই অ্যামফিটামিন। ফলে এটি মানবদেহে ইয়াবার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। যার ফলে মানসিক বিকারগ্রস্ততা (ইউফোরিয়া), হার্ট অ্যাটাক এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুসারে, মাদকের পরিমাণ ২০০ গ্রাম/মিলিলিটার বা তার কম হলে ন্যূনতম এক বছর থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। মাদকের পরিমাণ ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম/মিলিলিটার হলে পাঁচ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। মাদকের পরিমাণ ৪০০ গ্রাম / মিলিলিটারের বেশি হলে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
পেশা ধরে রাখে চোরা কারবারিরা
মাদক চোরাচালানের সাথে যারা জড়িত তারা এই ব্যবসা বার বার চালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন বিজিবির মেহেদি হোসাইন কবির। আবার অনেকে একবার এই ব্যবসায় জড়ালে বেরোতে পারে না।
এই চোরাকারবারিরা পাচারের জন্য নিত্যনতুন উপায় বের করছে বলে তিনি জানান, একারণে একবার বাধা পেলেও তারা ভিন্ন উপায়ে আবার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী আপনি দেখবেন, মাদক চোরাচালানের সাথে যারা জড়িত তারা এটা কোন না কোনভাবে অব্যাহত রাখে। যতো কড়াকড়িই করা হোক না কেন - এই মাদকের চোরাচালান কখনও পুরোপুরি থামানো যায় না।”
তার মতে, শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা রাষ্ট্রপরিকাঠামো দিয়ে এই মাদকের চোরাচালান ঠেকানো রীতিমতো অসম্ভব। এক্ষেত্রে সমাজ, পরিবার, অভিভাবক সবার সমন্বিত চেষ্টার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। মি. কবির বলেন, “আমরাও চেষ্টা করছি আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার জন্য সক্ষমতা বাড়াতে। হয়তো আগে আরও পাচার হয়েছে আমরা ধরতে পারিনি। এখন সক্ষমতা বেড়েছে বলে বেশি বেশি ধরা পড়ছে। " এদিকে বিগত কয়েকটি মাদকের চালান জব্দের ঘটনায় এসব পাচারের সাথে মিয়ানমারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে।
রোহিঙ্গাদের এই দুই দেশে নেটওয়ার্ক থাকায় এই মাদক চোরাচালান তাদের জন্য আরও সহজ হয়ে উঠছে বলে জানান মি. কবির। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, "যদি আমাদের বর্তমান পদক্ষেপ যথেষ্ট না হয়, প্রয়োজনে আমরা আরও কঠোর হব। কেউ মাদক সংশ্লিষ্ট হলে তিনি যতোই প্রভাবশালী হোক আমরা ব্যবস্থা নেই। " আঙ্কটাডের প্রতিবেদনের তথ্য
মাদক ব্যবসার কারণে বছরে পাচার ৫ হাজার কোটি টাকা মাদকসংশ্লিষ্ট অর্থ পাচারের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। আর এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে।
বাংলাদেশ থেকে মাদকের কারণে প্রতিবছর পাচার হয়ে যায় ৪৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। আর মাদক কেনাবেচা করে অর্থ পাচারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। এশিয়ার দেশগুলো বিবেচনায় নিলে মাদকের মাধ্যমে টাকা পাচারের ঘটনায় বাংলাদেশ একেবারে শীর্ষে রয়েছে।
অবশ্য পাচার করা টাকার হিসাব অনুমানভিত্তিক, এটি করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড। আঙ্কটাড (ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) তাদের ওয়েবসাইটে অবৈধ অর্থপ্রবাহ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯টি দেশের মাদক সংশ্লিষ্ট অবৈধ অর্থপ্রবাহের অনুমানভিত্তিক হিসাব তুলে ধরেছে সংস্থাটি। অন্য দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, মালদ্বীপ, মেক্সিকো, মিয়ানমার, নেপাল ও পেরু।
তখন ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ফেনসিডিল ঢুকত। একসময় ফেনসিডিলের জায়গা দখল করে হেরোইন। এখন দেশে ইয়াবার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবার চেয়ে ভয়ংকর মাদক আইস দেশে ঢুকছে।
আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদকের অবৈধ অর্থপ্রবাহের দিক থেকে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। এরপর যথাক্রমে রয়েছে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও বাংলাদেশ। মাদক এবং অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনওডিসির সহায়তায় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের মাধ্যমে অবৈধ অর্থপ্রবাহের অনুমানভিত্তিক এই হিসাব করেছে আঙ্কটাড।
তালিকায় এশিয়ার যে পাঁচটি দেশের নাম রয়েছে, এর মধ্যে শীর্ষে থাকা বাংলাদেশের পরেই আছে মালদ্বীপ ও নেপাল। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে আফগানিস্তান ও মিয়ানমার। মূলত ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মাদকের মাধ্যমে অবৈধ অর্থপ্রবাহের এই চিত্র প্রথমবারের মতো তুলে ধরেছে আঙ্কটাড।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, দেশের ভেতর দিয়ে যত মাদক চোরাচালান হয়, এর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ উদ্ধার হয়। অর্থাৎ দেশে আসা ৮০ শতাংশ মাদক উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। ফলে যত মাদক উদ্ধার হয়, তার বাজারমূল্যকে পাঁচ গুণ বাড়িয়ে অনুমিত হিসাব করে ইউএনওডিসি । তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েই মাদকসংশ্লিষ্ট অর্থ পাচারের অনুমানভিত্তিক হিসাবটি করেছে আঙ্কটাড।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যই বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মাদকের বিস্তার বেড়েছে। গত বছর দেশে ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৯টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার হয়েছে। ইয়াবার মূল উপাদান ম্যাথঅ্যাম্ফিটামিন বা আইস উদ্ধার হয়েছে ১১৩ কেজি ৩৩১ গ্রাম। আর হেরোইন উদ্ধার হয়েছে ৩৩৮ কেজি। এর আগের বছর (২০২১) ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ৫ কোটি ৩০ লাখ ৭৩ হাজার ৬৬৫টি, আইস উদ্ধার হয়েছে ৩৬ কেজি ৭৯৪ গ্রাম এবং হেরোইন উদ্ধার হয়েছে ৪৪১ কেজি ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানত মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে এখন দেশে মাদক আসছে। আর আশির দশকের শুরু থেকে দেশে বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যাপক আকারে আসতে শুরু করে। তখন ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ফেনসিডিল ঢুকত। একসময় ফেনসিডিলের জায়গা দখল করে হেরোইন। এখন দেশে ইয়াবার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবার চেয়ে ভয়ংকর মাদক আইস দেশে ঢুকছে। বিভিন্ন সময় দেশে কোকেনের মতো মাদকও ধরা পড়েছে। সম্প্রতি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১ কেজি ৮০০ গ্রাম কোকেনসহ ভারতীয় একজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। তিনি মরক্কো থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। টাকা পাচার হচ্ছে
আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বাংলাদেশে ঢুকছে। আর মাদক কেনার অর্থ বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এশিয়ার যে পাঁচটি দেশের মাদক সংশ্লিষ্ট অবৈধ অর্থপ্রবাহের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, এর মধ্যে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও নেপাল থেকে অর্থ পাচার বেশি হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশে মাদক বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছেন আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের মাদক ব্যবসায়ীরা। এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কথা বলেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (নিরোধ শাখা) মানজুরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, দেশে কী পরিমাণ মাদক ধরা পড়ে, এই তথ্য ইউএনওডিসিকে সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি উদ্ধার করা মাদকের গড় বাজারমূল্যের তথ্যও সংস্থাটিকে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ইউএনওডিসি নিজ থেকেই অনুমানভিত্তিক একটি হিসাব
করে।
সেটি হলো, আটক বা জব্দের বাইরেও কী পরিমাণ মাদক কেনাবেচা বা পাচার হয়। এই দুটি বিষয় পর্যালোচনা করে ইউএনওডিসি অনুমান করে, দেশে আসা মাদকের বাজারমূল্য কত। বাংলাদেশে মাদক উৎপাদন হয় না, সবই বাইরে থেকে আসে। সুতরাং মাদক আনতে ব্যয় করা অর্থের পুরোটাই দেশের বাইরে চলে যায়।







































