
মোঃ জুয়েল রানা, স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গোপালপুর ড.মোশাররফ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.আবুল খায়ের এর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।
টাকা সংগ্রহের তালিকা সুত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা কথা বলে,এলাকার ১৫৮ জন ব্যাক্তির কাছ থেকে ১০,৬৯,৫০০(দশ লক্ষ ঊনসত্তর হাজার পাঁচ শত টাকা) সংগ্রহ করেন। উক্ত টাকা বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা না দিয়ে এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে না জানিয়ে সভাপতি নিজেই তার মনগড়া মতো খরচ করেন। কোন খাতে কত টাকা খরচ করেছেন? কখন খরচ করেছেন তা প্রধান শিক্ষক কিছুই জানেন না।
এবিষয়ে গোপালপুর ড.মোশাররফ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেইজ থেকে প্রধান শিক্ষক মো.শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত (১৯ আগস্ট) বিদ্যালয়ের প্যাডে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে একটি লিখিত নোটিশ প্রকাশ হয়। এছড়াও উক্ত নোটিশটি বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডেও সাটানো হয়েছে। প্রকাশিত নোটিশে লিখেছেন এলাকাবাসীর সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী জানতে পেরেছি বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি জনাব আবুল খায়ের বিদ্যালয়ের উন্নয়নমুলক কাজের কথা বলে এলাকার জনসাধারণের কাছ থেকে নিজেন ব্যাক্তিগতভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এলাকাবাসীর অনুদানের সেই অর্থ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট এবং বিদ্যালয়ের জেনারেলের ফান্ডে জমা দেয় নাই। এলাকাবাসীর কাছ থেকে মোট কত টাকা সংগ্রহ করেছে এবং কোথায় কত টাকা ব্যয় করা হয়েছে সে বিষয়ে প্রধান শিক্ষক অবহিত নয়।
এবিষয়ে গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা মো.আলী হোসেন বলেন, আমরা তিন ভাই চল্লিশ হাজার টাকা দিয়েছি, বিদ্যালয়ের উন্নয়নমুলক কাজের জন্য।এরকম গ্রামের অনেকেই টাকা দিয়েছেন। তবে আবুল খায়ের বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকা কালিন সময়ে অনেক উন্নয়নমুলক কাজ হয়েছে। যেমন একটি জমি কিনে মাঠ ভরাট করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে, দরজা জানালা মেরামত করা হয়েছে। যা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ড.মোশাররফ হোসেন স্যার অবহিত আছেন।
অপরদিকে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আবুল খায়ের বিদ্যালয়ের অনেক কাজ করেছেন।
এবিষয়ে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের, এলাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের কথা স্বীকার করে বলেন,আমি এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা করে বিদ্যালয়ের উন্নয়নমুলক কাজ করার জন্য টাকা সংগ্রহ করেছি এবং কাজও করেছি,যা এখন দৃশ্যমান। কে কত টাক দিয়েছে মোট কত টাকা উঠেছে তালিকা প্রধান শিক্ষকের নিকট আছে। তবে এটা সত্য আমি দ্রুত সময়ে কানাডা চলে আসছি, খরচের হিসব দিয়ে আসতে পারিনি। আমার কাছে সব খরচের হিসাব আছে। তিনি আরও বলেন এলাকাবাসী জানেন আমি বিদ্যালয়ের উন্নয়নমুলক কাজের জন্য কি করেছি। আমি বিদ্যালয় থেকে টাকা খাওয়ার জন্য সভাপতি হইনি, আমি সভাপতি হয়েছি শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাই করেছি ইনশাআল্লাহ।





























