
মোঃ আশিকুর রহমান আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি ( হবিগঞ্জ) :-
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও গ্রামে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, হামলা, ভাঙচুর ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
তবে মূল কারণ ছিলো আধিপত্য বিস্তার। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাজার ওহ নিজেদের দলীয় প্রভাব নিয়ে জামেলা চলছিলো।কাকাইলছেও আনন্দপুর ডেমিকান্দি গ্রামের আল কোরআন সওদাগর একই এলাকার চানপুর গ্রামের হান্নান মিয়ার সাথে বাজারে বাকবিতন্ডা হয়। পরে দু'পক্ষের লোকজন বিষয় জানাজানি হলে পরিস্থিতি খারাপে রুপ নেয়।
৯ই ডিসেম্বর রোজ সোমবার সকাল প্রায় ৭ ঘটিকার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এতে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলাকালে হান্নান মিয়ার পক্ষের রাসেল মিয়া (৪৫) নিহত হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জের ইটনা–মিঠামইন আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধ চলছিল। ওই আসনে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁর সমর্থক কাকাইলছেও গ্রামের হান্নান মিয়া ফেসবুকে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে একই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক ডিসি ও বিএনপি নেতা রহিম মোল্লার সমর্থকদের সঙ্গে তার অনুসারীদের বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। গত ৮ই ডিসেম্বর রোজ সোমবার বিকেলে হান্নান মিয়া সওদাগর পরিবারের মৃত এক সদস্যকে নিয়ে আক্রমণাত্মক ও অবমাননাকর স্ট্যাটাস দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। বিষয়টি জানতে চাইতে গেলে হান্নান মিয়া এবং আল কোরআন সওদাগরের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের সময় হান্নান মিয়ার অনুসারীরা আল কোরআন সওদাগরের দোকানে হামলা চালিয়ে ফ্রিজ, সাইকেল, মোবাইল ফোন, আসবাবপত্রসহ মূল্যবান সামগ্রী ভাঙচুর ও লুটপাট করে। একই সময়ে কুহিন সওদাগরের দোকানেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে বাবুল মিয়া দাবি করেন, সওদাগর পরিবারের লোকজনই আগে তাদের ফার্নিচারের দোকানে হামলা চালিয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার তদন্ত ওসি বিশ্বজিৎ পাল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মোতায়েন করেন। পরে সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আল কোরআন সওদাগর জানান, হান্নান মিয়া আগেও তাঁদের পরিবারকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতেন। তবে এবার তাঁর মৃত বাবাকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোয় বিষয়টি জানতে গেলে হামলার শিকার হতে হয়। তিন ঘন্টা সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে পুলিশ, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর অবস্থান করছে।
সংঘর্ষের আহতরা রাব্বি মিয়া (১৮), ছাব্বির (২১), ইন্তাজ আলী (১৬), সেলিম (২৫), বাবলু (৩৫), জিয়াউর (৫০), তকদির(২৮), আলতু মিয়া (১৮), রায়হান (২৮), আশরাফ উদ্দিন( ২৪), মাসুম (২৬), জীবন (২৮), আমেনা খাতুন (২৫) এবং অন্য আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন জানা যায়। এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মেডিকেল অফিসার অভিজিৎ পাল বলেন হাসপাতালে নিয়ে আসার পর পরিক্ষা নিরীক্ষা করে করে আমরা রাসেল মিয়াকে মৃত্যু অবস্থায় পাই। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আকবর হোসেন জানান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, একজন মিহত হয়েছেন খবর পেয়ছি হাসপাতালে।





























