
কয়েকদিনের গরম-ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে চুয়াডাঙ্গা ও টাঙ্গাইলে বেড়েছে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু। হাসপাতালগুলোতে বাড়তি চাপের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। চিকিৎসকেরা বলছেন, মানসম্মত সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সেখানে অন্তত ৪০ জন নতুন রোগী আসছে। এখন রাতে শীতের আমেজ, দিনে গরম-আবহাওয়ার কারণে শিশুরা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ আসাদুর রহমান খোকন বলেন, শিশু ওয়ার্ডে বিছানা আছে ১৩টি। গত এক সপ্তাহ আগে থেকে শিশু রোগীর চাপ বাড়ছে। প্রতিদিন অন্তত ৪০ জন নতুন শিশু রোগী এসে ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। গত তিন থেকে চার দিন ধরে সবসময়ই রোগী ভর্তি থাকছে দেড় শর কাছাকাছি।
হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজনেরা জানান, সর্দি কাশি ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গায় এখন দিনে গরম রাতে শীত। এ কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা। হাসপাতালে বিছানা না পেয়ে বেশিরভাগ রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে রোগী আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
অতিরিক্ত রোগীর কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই সময়টা সতর্ক থাকতে হবে। কোনো কারণে শিশু অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুর শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে যাওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে আসছেন অভিভাবকেরা। এতে করে রোগী সুস্থ হতে সময় লাগছে বেশি।
টাঙ্গাইলেও বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিন শতাধিক রোগী, আর ভর্তি হচ্ছেন ৯০ থেকে ৯৫ জন। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুন বেশি রোগী ভর্তি থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না।
রোগীর স্বজনেরা জানান, হাসপাতালে বাচ্চা নিয়ে এসে কোনো সিটি খালি না পাওয়ায় মেঝেতেই ভর্তি হচ্ছে সবাই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগী এখানে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদেকুর রহমান বলেন, অধিকাংশ মা-বাবা তাদের সন্তানদের নিয়ে আসছেন নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগ নিয়ে। সকলেই চিকিৎসা পাচ্ছে, তবে ধারণক্ষমতার বেশি রোগী আক্রান্ত হওয়ায় সব রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না।
মানসম্মত সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।





























