
দেশে প্রথম ডেঙ্গুর বিপদজনক কসমোপলিটন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রামে। গবেষকেরা বলছেন, রোহিঙ্গা ও ভারত ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে এটি দেশে আসতে পারে। এ বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগীদের ৮৮ ভাগ আরেক ভ্যারিয়েন্ট ডেন-টু-তে আক্রান্ত। এসব কারণে জেলায় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ও মৃত্যুহার বাড়ছে।
চট্টগ্রামে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৪২০ জন। গতকাল রোববার পর্যন্ত মারা গেছেন ২২ জন।
চলতি বছর ডেঙ্গু শনাক্ত ৮৮ ভাগ রোগী ডেন-টু ভ্যারিয়েন্ট আর ১১ শতাংশ ডেন-থ্রি ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। যাদের ফুসফুসে জটিলতা ও শ্বাস কষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। সম্প্রতি নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২ শ রোগীর ওপর গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ডেঙ্গু কর্নারের ফোকাল পার্সন ডা. নূর উদ্দিন বলেন, ‘এটি একটি বিপজ্জনক ভ্যারিয়েন্ট। গবেষণায় দেখেছি, যারা ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে শারীরিক জটিলতা বেশি ছিল। ব্যথার তীব্রতাও বেশি ছিল তাদের। যাদেরকে পরবর্তীতে আইসিইউতে নিতে হয়েছে।’
এই প্রথম ডেঙ্গুর বিপদজনক স্যারোটাইপ কসমোপলিটন ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি মিলেছে গবেষণায়। যে কারণে রোগীর হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হার বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গা ও ভারত থেকে ভ্রমণকারী ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই ভ্যারিয়েন্ট দেশে এসেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গবেষক দলের সদস্য ডা. আবদুস সাত্তার বলেন, ‘ডেঙ্গুর কসমোপলিটন ভ্যারিয়েন্টটি দেশের অন্য কোনো মহানগরীতে দেখা যায়নি। এটি চট্টগ্রামেই প্রথম যা গবেষণায় প্রমাণিত। রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে এটি দেশে আসতে পারে। এ জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে প্রাথমিকভাবে এটি নিশ্চিত যে কসমোপলিটন ভ্যারিয়েন্টের মশার আবাসস্থল ধ্বংস করা যায়নি। ফলে এটি ছড়াচ্ছে।’
গবেষণার নতুন তথ্যে চিন্তিত স্বাস্থ্য প্রশাসন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় ও রোহিঙ্গা রোগীদের ওপর বিশেষ নজরদারির পরিকল্পনা করছেন তারা।
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা জরিপ ও গবেষণাগুলো পর্যালোচনা করে আগামীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কর্মকৌশল ঠিক করব। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা ডেঙ্গু রোগীদের ওপর নজরদারিও বাড়ানো হবে।’
নগরীর থানাভিত্তিক ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বিবেচনায় পাঁচটি থানাকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এ গবেষণায়।





























