
মোঃ জুয়েল রানা, স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা শাখা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে দাউদকান্দি-তিতাস উপজেলার কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুর গ্রীনলীফ রেস্টুরেন্টের তৃতীয় তলায় এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোঃ মনিরুজ্জামান বাহালুল এর সভাপতিত্বে ও এ্যাড মোঃ মোখলেছুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা খন্দকার আবুল বাশার। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, দাউদকান্দি পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল কাশেম প্রধানিয়া, উপজেলা সেক্রেটারী মোঃ মনিরুজ্জামান, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারী মোঃ মেজবাহ উদ্দিন মিয়াজী, পৌরসভা সেক্রেটারী মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা কার্জী বশিরুল্লাহ, ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান আরিফ, কুমিল্লা পশ্চিম ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ জিসান মিয়া, ইলিয়টগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোঃ দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, জেলা শ্রম কল্যাণ ফাউন্ডেশন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোশারফ হোসেন ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর অর্থ সম্পাদক আব্দুল লতিফসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
এসময় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি জেলা মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা খন্দকার আবুল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, ৫ই আগষ্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফলে স্বৈরশাসনের পতনের মাধ্যমে এ দেশের বিপ্লবী ছাত্র সমাজ দেশের নির্যাতিত জনগন, মুক্তিকামি সুশিল সমাজ, বঞ্চিত পেশাজীবী মানুষ, আরো একবার স্বাধিনতার স্বাদ গ্রহন করেছে। সেই সব অকুতভয় ছাত্র সমাজকে কৃতজ্ঞচিত্তে সালাম জানাই এবং নিহতের জন্য আল্লাহর দরবারে শাহাদতের মর্যদা কামনা করছি।
তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্রের নামে একদলীয় শাসন শুরু হয়েছিল আজ থেকে ১৬ বছর পূর্বে। দেশের সকল সেক্টরে ছিল দলীয়করনের দৃশ্যমান চিত্র। তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, লেখক কেউ এর বাহিরে ছিল না। সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করার সাহস যারা দেখিয়েছে তাদেরকে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে একপেশে করেছে। ডিবি অফিসের ভয়ংকার চিত্র, আয়নাঘরের মত লোমহর্ষক ঘটনা, সাদা পোষাক বাহিনীর দুর্দান্ত দাপট। সরকারী দলের ক্যাডার বাহিনীর অন্যায় আচরণ, অফিস গুলোতে সুদ-ঘুষ বানিজ্য ছিল এদেশের প্রতিদিনের নৈমিত্তিক চিত্র। সাধারণ মানুষ এসকল অপকর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারিনি সত্য কিন্তু তাদের দীর্ঘশ্বাস ৫ ই আগস্ট নিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানুষের কল্যান কাজ করে সবসময়। আমাদের চলার পথে যেখানেই যে দোষ ত্রুটি আপনারা দেখবেন তা নিঃসংকোচে গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। এদেশে যেন কোনো ব্যাক্তিকে কোন রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী, কিংবা ধর্মীয় কোন ব্যক্তিকে বা গোষ্ঠীকে কেউ কোন ট্যাগ লাগিয়ে যেনো কেউ কাউকে হেনস্তা করতে না পারে তার দিকে আপনারা লক্ষ্য রাখবেন। কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে সেদিকে আমাদের সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দূর্নীতি করে কেউ যেন পার পেয়ে না যায় সেজন্য আপনাদেরকে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সাহায্য করতে হবে। আসুন একটি ইনসাফ ভিত্তিক ও রাষ্ট্র গঠনে আমরা সকলের জায়গায় থেকে সোচ্চার হই, সচেতন হই। সাদাকে সাদা বলতে শিখি, অন্যায় ও অনিয়মকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।





























