
মোঃ নিয়াজ মাখদুম,চবি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) স্টেশনের দোকান দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবলীগ নেতা হানিফের অনুসারী ছাত্রলীগের পোলাপান ভোর রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাকা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলির শব্দ শুনে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট অবস্থান নিলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
সন্ত্রাসীরা ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে গিয়ে মাইকিং করে স্থানীয় লোকজনদের ছাত্রদের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়। ফলে স্থানীয় লোকজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট সড়ক অবরোধ করে রাখে, চবি প্রক্টর ছাত্রদের নিয়ে রাস্তার অবরোধ খুলে দেন এবং স্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বলে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন।
সোমবার (২১ অক্টোবর) ভোর রাত ৩:৪০ এর দিকে এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন সংলগ্ন একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে এ হামলা হয় বলে জানা গেছে।
চবির সমন্বয়ক ওবাইদুল্লাহ মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা ক্যাম্পাসকে হাসিনার প্রেতাত্মা মুক্ত করবো। আমাদের এই ঐক্য নষ্ট করা যাবেনা।কোনো ধরণের প্রোপাগাণ্ডায় কান দিবেন না।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে চবি শিক্ষার্থীরা।
আমাদের ছাত্ররা কখনো কোন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি এবং করবেও না,বলে জানান প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ। তিনি আরো জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। এখানে একটি দোকান নিয়ে দুই দলের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। এই ঝামেলায় শিক্ষার্থী কিংবা এলাকাবাসীর কোন সম্পর্ক নেই। উভয়ের মাঝে এটি নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে আমরা ইতিমধ্যে এটি সমাধান করেছি।
এবিষয়ে দোকান মালিক শেখ মাহমুদ হাসান বলেন, আমার যে দোকানে হামলা হয়েছে সেটা আগে কটেজ হিসেবে ছিল, স্বৈরাচার হাসিনা সরকার পতনের পর আমরা এটাকে দোকানে পরিণত করি। গত কয়েকদিন যাবত স্থানীয় যুবলীগ নেতা হানিফের অনুসারী ছাত্রলীগের পোলাপান হুমকি ধামকি দেয়। আমি এবিষয়ে সমন্বয়কের সাথে কথা বলি, তারা গতকাল স্টেশনে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আজ ভোর রাতে ৩:৪০ এর সময় সবাই যখন দোকান বন্ধ করে চলে যাবো তখন এসে ৪০/৫০ টা ককটেল বিস্ফোরণ করে এবং আমাদের দিকে ওপেন ফায়ার করে। আমরা সরে গেলে তারা দোকান লুটপাট ও ভাঙচুর করে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চবির ৪ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, আইএমএল বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত, আরবি বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান লোক-প্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষার্থী মোনায়েম শরীফ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান।





























