
কৃষ্ণ চন্দ্র দাস, ফেনী ফেনীতে দলীয় ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হতাহতের মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি হিসেবে জড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। একটি চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলার তালিকায় সাধারণ মানুষ, এমনকি ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং ছাত্রদের নাম যুক্ত করছে। দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক মামলার বাদী নিজের দায়ের করা মামলার আসামিদের চিনতেই পারছেন না। রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারা বিভিন্ন জনের নাম সংগ্রহ করে প্রতিহিংসার জেরে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।মামলার তালিকা থেকে টাকার বিনিময়ে নাম কাটানোর অভিযোগও রয়েছে, যেখানে অনেক নিরীহ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এমনকি পুলিশ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদেরও বিভিন্ন পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে নির্দোষ ব্যক্তিদের আটক না করার জন্য। তবুও সাজানো মামলায় সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তারের ধারা অব্যাহত রয়েছে।এই ধরনের প্রহসনের শিকার কয়েকজন ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। যেমন, ফরহাদ নগরের বাসিন্দা বেলাল আহমেদ অভিযোগ করেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে তার ছেলেকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে হত্যার মামলায় যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। কিছু বাদী জানান, তাদের কাছে এজাহারে যাদের নাম রয়েছে, তারা অনেকেই অজানা। লেমুয়া ইউনিয়নের এক ছাত্রদল কর্মীর পরিবারের অভিযোগ, তাকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে দেখিয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছে।স্থানীয় রাজনীতির জটিলতা এবং প্রতিহিংসামূলক মনোভাবের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর এই মামলাগুলোতে পুলিশকে প্রতিটি আসামির কার্যকলাপ ও আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তবুও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হতে পারেন।জামায়াত, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়েছেন, নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। তবে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ফেনীতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি থামছে না, এবং এতে সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।





























