
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
নগরীর ফুটপাতের চিহ্নিত চাঁদাবাজ, খুন ও নাশকতার মামলার আসামী আসাদুল ইসলাম আসাদকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। বুধবার রাতে রূপগঞ্জ উপজেলার গাউছিয়া এলাকা হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোনারগাঁয়ে বুরুমদী এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে আসাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার র্যাব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে আসাদুল ইসলাম আসাদ নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় তার সহযোগী হকাদেরকে নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র জনতার উপর সশস্ত্র হামলা করে। পরবর্তীতে আসাদের উস্কানি ও তার মদদে সহযোগী হকাররা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, যানবাহন, বাস স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। তাদের এমন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জনগণ গুরুতর আহত হওয়াসহ প্রাণহানির শিকার হয়।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের আসাদ জানাায়, সে নিজেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের হকার সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর হকার লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেলেও কয়েক বছর আগেও সে সড়কের ফুটপাতে হকারি করতো। এক সময় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে সখ্যতা তৈরি করে সে হকারদের নেতা হয়ে যায়। ২০১৮ সালে সিটি করর্পোরেশন ও প্রশাসনের ফুটপাত হকারমুক্ত করার যৌথ উদ্যোগের বিরোধীতা করে আন্দোলন করা নেতাদের অগ্রভাগে ছিল সে। একই বছরের ১৬ জানুয়ারি হকার মুক্ত সড়ক ইস্যুকে কেন্দ্র করে হকারদের নিয়ে হামলা করে জনগণ, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য'সহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত করে। এরপর ২০২১ সালের ৯ মার্চ ফুটপাতে বসার দাবিতে বিক্ষোভ করে হকাররা। ওই সময় হকারদের নেতৃত্ব দেয় আসাদ। ওইদিন বিকেলে সড়কে আগুন দিয়ে যানবাহনে ভাঙচুর চালায় হকাররা। বাধা দিলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। ওই ঘটনায় পুলিশের উপর হামলা, অস্ত্র লুটের চেষ্টা, যানবাহন ভাঙচুর ও সড়কে আগুন দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় আসাদ। একই বছরের ১৪ অক্টোবর ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে খুন হন ১৮ বছর বয়সী তরুণ জোবায়ের হোসেন। ওই তরুণও ফুটপাতে হকারি করতো। তাকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। ওই হত্যা মামলারও আসামি এই আসাদ। পরে নিহত জুবায়েরের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। নিহত জুবায়েরের মা মুক্তা বেগম এই ঘটনায় থানায় আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন। নিজেকে হকার নেতা বলে পরিচয় দেওয়া আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদ নারায়ণগঞ্জ এর চাষাড়া এলাকায় মূলত চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। ঐ এলাকার সড়কের ফুটপাতে বসতে হলে আসাদকে দৈনিক চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদার একটি অংশ সখ্যতা বজায় রাখা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পৌঁছে দিত আসাদ।





























