
বিশেষ প্রতিনিধি:
জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের দেয়া সহায়তার চেকের বয়স চার মাস পার হলেও নগদায়ন বাকী রেখে নতুন করে বিজিবি সদস্যদের নিয়ে 'আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন'র পুনঃ আয়োজনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি জুলাই যোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন নামক সংগঠন জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। সে সময় জানানো হয়, ১৫ জানুয়ারির পর থেকে এসব চেক নগদায়ন (পাশ) হবে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দীর্ঘ প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলেও অনেক জুলাই যোদ্ধারা এখনো সেই চেক নগদায়ন করে অর্থ উত্তোলন করতে পারে নি। এরই মাঝে এই সংগঠনটি সাবেক বিডিআরদের 'সীমান্ত রক্ষা বীর সম্মাননা' শনিবারের (১৮ এপ্রিল) আয়োজন মূলত একধরনের প্রতারণার শামিল।
ভুক্তভোগীরা জানান, সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেওয়া এসব চেক ব্যাংকে জমা দেওয়ার পরও অনেকেই টাকা পাননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, চেক বাউন্স হয়েছে বা ব্যাংক থেকে অর্থ ছাড় হয়নি। এতে উপকারভোগীদের মধ্যে চরম হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই আহত যোদ্ধারা অভিযোগ করছেন, তারা নিয়মিতভাবে ব্যাংকে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বারবার ব্যাংক ঘুরেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না বলে দাবি করেন তারা। এতে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
এরই মধ্যে এই সংগঠন আগামী ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সেগুনবাগিচায় “সীমান্তরক্ষা বীর সম্মাননা-২০২৬” নামে একটি নতুন সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে। “ঐতিহাসিক ১৮ই এপ্রিল: মহান বড়াইবাড়ী দিবস” উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানে সাহসী বিডিআর সদস্যদের ইতিহাস ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।
তবে জুলাই যোদ্ধাদের দেয়া আগের ৫০ হাজার টাকার চেকের অর্থ এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় নতুন আয়োজন ঘিরে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষায়,
“৭ জানুয়ারি চেক পেয়েছি, ১৫ জানুয়ারি থেকে পাশ হওয়ার কথা ছিল- চার মাসেও টাকা পাইনি, আমরা যারা জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধা- ব্যাংকে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছি। তারা কি আমাদের সাথে প্রতারণা করলো!
এ বিষয়ে আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন এর লিগ্যাল উইংস প্রধান এড. আব্দুল আজিজ বলেন- আমরা যে টাকা পেয়েছি তা থেকে অনেকে চেক নগদায়ন করেছে। বাকীরা পর্যায়ক্রমে পাবে।
তবে চার মাস অতিবাহিতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়েই ফোন কেটে দেন।
জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই আহত যোদ্ধারা যাতে দ্রুত তাদের দেয়া চেক নগদায়ন করতে পারে সে বিষয়ে সংগঠনটির উর্ধ্বতন কর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যাতে তারা উক্ত সংগঠনের দ্বারা প্রতারিত না হন।





























