
তানজিদ শুভ্র:
বাংলা কবিতার পরিসরে এক ব্যতিক্রমী, গীতিনাট্যঘন ও দার্শনিক আবহে লেখা দ্বিখণ্ড কাব্যগ্রন্থ নিয়ে হাজির হচ্ছেন কবি মো. সেলিম হাসান দুর্জয়। ‘দেবীসমগ্র (১)’ ও ‘দেবীসমগ্র (২)’ শিরোনামে কাব্যগ্রন্থদ্বয় প্রকাশিত হচ্ছে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে।
প্রেম, আরাধনা, দ্রোহ ও আত্মশুদ্ধির এক অভূতপূর্ব কাব্যিক যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে এই দ্বি-পর্বের কাব্যে। যেখানে দেবী কখনো প্রেমিকা, কখনো পূজিতা আর কখনো চরম বাস্তবতায় রূপ নিয়েছেন দ্রোহিণীতে।
‘দেবীসমগ্র (১)’-এ পাঠক পাবেন এক ঐশ্বরিক প্রেমের পূজা—যেখানে দেবী চারুলতা হয়ে উঠেছেন প্রেমমন্দিরের লক্ষ্মীপ্রতিমা, সরস্বতী ও সময়তরু। কবিতা ও সংলাপের ধ্বনিতে ফুটে উঠেছে এক মরমী প্রেমানুভব।
অন্যদিকে ‘দেবীসমগ্র (২)’-এ সেই প্রেমিকের ভাঙন, বিরহ, শুদ্ধিকরণ এবং শেষে ঋষিপথে যাত্রা প্রতিফলিত হয়েছে গীতিনাট্যরীতিতে। দেবী এখানে প্রেমের প্রতিমা নন—তিনি স্মৃতি, বিভ্রম, অনুতাপ আর আত্মোপলব্ধির প্রতিচ্ছবি।
দ্বিতীয় খণ্ডে ‘দেবীর প্রতিউত্তর’ নামে একটি উপপর্বে কবি-সৃষ্ট জগতের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে দেবীর করুণ মিনতি এবং আত্মসমর্পণের অনন্য কাব্যিক রূপ পাঠকদের মনে নাড়া দেবে বলেই আশা করা যায়।
‘দেবীসমগ্র’ কাব্যগ্রন্থদ্বয় প্রকাশ করছে মেহেদী পাবলিকেশন্স। প্রথম খণ্ড দেবীসমগ্র (১)-এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা এবং দ্বিতীয় খণ্ড দেবীসমগ্র (২)-এর মূল্য ২৫০ টাকা। বই দুটি সহজেই পাওয়া যাবে অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে রকমারি এবং ই-বই বিতান এ।
এই দ্বিখণ্ড কাব্যের গঠনও অনন্য। প্রতিটি খণ্ডে রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা কবিচেতনার নানা উপপর্ব, যেখানে প্রেম, স্মৃতি, আত্মসংলাপ ও মানবিক বিপর্যয়ের স্তরে স্তরে গড়ে উঠেছে কবির কাব্যিক বিশ্ব। আলোচিত কিছু উপপর্বের মধ্যে রয়েছে ‘প্রেমোপলব্ধির অরুণাবর্ত’, যেখানে প্রেমের সূচনালগ্নে কবি ও দেবীর মিলনের প্রতিধ্বনি ধ্বনিত হয়েছে; ‘স্মৃতির পদচিহ্ন’, যেখানে সম্পর্কের রেশ ধরে কবিতায় ফুটে উঠেছে বিচ্ছিন্ন মুহূর্তের কাব্যিকতা; ‘শুদ্ধকল্প’, যেখানে কবি প্রেম ও মায়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে আত্মশুদ্ধির এক অন্তর্গত সত্যে উপনীত হন।
দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে ‘দেবীহীন সৃষ্টি’, যেখানে প্রেমহীন এক মানবিক জগতের গীতিনাট্য রচিত হয়েছে; ‘দেবীর প্রতিউত্তর’, যেখানে একা ও বিস্মৃত দেবীর আত্মপ্রকাশ ফুটে উঠেছে কবিতার দার্শনিক উচ্চারণে; আর ‘ঋষিকবির মহাকাব্য’ অংশে দেখা যায় প্রেমবর্জিত এক মহাজগত নির্মাণের কাব্যিক প্রয়াস। সবশেষে ‘নির্বাণপত্র ও দেবলোকের পথচিহ্ন’ পর্বে কবি ও দেবীর অলৌকিক মিলনের চিহ্ন হয়ে ওঠে অনন্ত আত্মত্যাগ ও কল্পলোকের প্রতিচ্ছবি।
কবির সৃষ্ট ‘দেবীসমগ্র’ নিছক প্রেম নয়, এ যেন প্রেম, পতন ও পুনর্জন্মের এক মহাকাব্যিক মানচিত্র।
শুভ্র/







































