
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে জাতীয় নির্বাচনের মাঠ হঠাৎই জমে উঠেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নানা দায়িত্ব সামলে এবার ইসলামী আন্দোলনের হাত পাখা প্রতীকে লড়াই করতে যাচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও জাতীয় পার্টির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মসিহ্।
গত শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় আমীর মুফতি রেজাউল করিম আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণা করলে রাজনীতির অঙ্গনে তৈরি হয় নতুন আলোচনার ঢেউ।
এর আগে এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সোনারগাঁ উপজেলা সেক্রেটারি ফারুক আহমেদ মুনসি প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে তাঁকে সরিয়ে এনে দলটি বেছে নিয়েছে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অধিকারী গোলাম মসিহ্কে।
ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওলানা দ্বীন ইসলাম বলেন, “গোলাম মসিহ সাহেব ২০১৩ সাল থেকেই আমাদের দলের সঙ্গে আছেন। সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের আলোচনার ভিত্তিতেই তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে। সারাদেশে আমাদের তালিকায় আরও চমক আসছে।”
গোলাম মসিহ্ বলেন, “ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর থেকে আমি দলকে খুব কাছ থেকে দেখছি। পাঁচ মাস আগে আমি ঘরোয়া পরিবেশে যোগ দিয়েছি। সেখানে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ ৩০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমি বহু অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি, বিভিন্ন দল ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকেছি। এবার চাই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি জনসেবায় নিজেকে আরও নিবেদন করতে। আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্প, নদী, ঐতিহ্য, অর্থনীতি; সব মিলিয়ে সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।”
তিনি আরও বলেন, “এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সংকট মাদক, সন্ত্রাস আর দুর্নীতি। এই তিনটি জিনিস সমাজকে ধ্বংস করছে। বিশেষ করে যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে মাদক। আমি নির্বাচিত হলে সবচেয়ে আগে মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অভিযান চালানো হবে। প্রশাসন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে যুবসমাজকে বাঁচানোর উদ্যোগ নেব।”
“শীতলক্ষ্যা নদীর করুণ অবস্থা আমাকে ব্যথিত করে,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই নদী শুধু পানি নয়; এটা আমাদের অর্থনীতি, পরিবেশ ও সংস্কৃতির অংশ। শিল্পকারখানার বর্জ্য ফেলে নদীটাকে মৃতপ্রায় বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত হলে পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প মালিকদের নিয়ে একসাথে একটি টেকসই দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলবো। শীতলক্ষ্যার জলমান ফিরিয়ে আনাই হবে আমার বড় চ্যালেঞ্জ।”
গার্মেন্টস শিল্পের অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সিদ্ধিরগঞ্জের কয়েকটি বড় গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছেন। বিশেষ করে সিনহা গার্মেন্টসে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিকের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। আমি নির্বাচিত হলে এই শিল্পগুলো পুনরায় সচল করতে সরকার, মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বসবো। শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা আমার অগ্রাধিকার।”
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ পান গোলাম মসিহ। এর আগে ২০১৪ সালেও তিনি একই দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সোনারগাঁয়ের সাবেক বিধায়ক মরহুম আব্দুল আউয়ালের তৃতীয় পুত্র। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে এসএসসি-এইচএসসি পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
ক্যারিয়ারের শুরুতে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম, টোটাল গ্যাস, এশিয়া স্যাটেলাইট, হংকং টেলিকম, জেনারেল অ্যাটমিকসসহ একাধিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ওআইসি’র স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ক প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।





























