
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় সাতক্ষীরার পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষীপ্ত হয়ে উঠেছে স্বার্থান্বেষী এক ব্যক্তি।
জানা যায়, সদর উপজেলার থানাঘাটা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আবু তাহের গত ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় ১৬৫৮/২৫ নম্বর একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর উপর অর্পণ করেন। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তের জন্য সদর সাতক্ষীরা পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারকে দায়িত্ব প্রদান করেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে শর্মিষ্ঠা সরকার ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করেন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয় আদালতের বিচারাধীন থাকায় ভূমি অফিস আইনগতভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য।
এ বিষয়ে পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকার জানান, তিনি গত ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। যেহেতু জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, তাই আইন ও বিধি অনুসরণ করেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন নিজের অনুকূলে না যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মামলার বিবাদী ফারুক হোসেন। গত কয়েক দিন আগে তিনি সদর ভূমি অফিসের সামনে পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলেন—“ওই জমি আমার দখলে, তবুও কেন আমার বিপক্ষে রিপোর্ট দেওয়া হলো।”
সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে ফারুক হোসেনের পক্ষে বৈধ মালিকানা কিংবা আদালতের কোনো স্থগিতাদেশের উল্লেখ নেই। এ অবস্থায় তিনি ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি তিনি শর্মিষ্ঠা সরকারের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সরেজমিনে না গিয়ে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ফারুক হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।





























