
আবু রায়হান রাসেল, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর বন্ধু মিতালি ফাউন্ডেশনের এমডি নাজিম উদ্দিন তনু গ্রাহকদের ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তার ঘটনায় টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোর শহিদ মিনার চত্বরে প্রায় ২ শতাধিক ভুক্তভোগী পরিবার মানববন্ধন করেন।নওগাঁর মান্দা উপজেলার দক্ষিণ মইনুম গ্রামের জাহানার বেগম ভিক্ষা করে সংসার চালাই। ৫ বছর আগে মায়ের বাড়ি থেকে পাওয়া এক কাঠা জমি বিক্রি করে আড়াই লাখ টাকা বন্ধু মিতালি ফাউন্ডেশনের কাছে জমা রেখেছিলেন মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু হঠাৎ করে তার স্বপ্ন যেনো ভেঙে চুরমার করে গ্রাহকদের প্রায় ৬০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে বন্ধু মিতালি ফাউন্ডেশনের এমডি নাজিম উদ্দিন তনু। কান্না জরিত কন্ঠে জাহানার বলছিনের তার কথা।তারই মতো ধানের চাতালে শ্রমিক মাসুদা। স্বামী মারা গেছে বহুদিন আগে। এরপর শেষ অবলম্বন ছেলেও রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এরপর সে ধানের চাতাল এবং মানুষের বাড়ীতে কাজ করে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন বন্ধু মিতালি ফাউন্ডেশনের কাছে। রানীনগর উপজেলার বেদগাড়ী ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা জনাব। তিনি তার দুই ছেলেকে দেশের বাহিরে পাঠিয়েছেন প্রায় ১০ বছর আগে। দুই ছেলের পাঠানো প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ৪ মাস আগে সমিতিতে রেখেছিলেন। হঠাৎ পালিয়ে যাওয়ায় টাকার শোকে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে দেখা যায় তাকে। কি জবাব দিবে তার দুই ছেলেকে। এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার জন্য নাওয়া-খাওয়া প্রায় ছেরে দিয়েছেন তিনি।এ সময় শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন এমামুল হক, আব্দুল জলিল, সামসুর রহমান, নাসরিন আক্তার, মাসুদা, মনসের, জনাব সহ প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী পরিবার।জেলা সমবায় কর্মকর্তা খোন্দকার মনিরুল ইসলাম জানান, নওগাঁতে সাড়ে চারশোটির মতো ঋণদানকারী সমিতির কার্যক্রম বর্তমানে চলমান আছে। যেগুলো সমবায় সমিতি সম্প্রতি গ্রাহকদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না দিয়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে তাঁদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে এসব সমিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।প্রসঙ্গত, নওগাঁ প্রতি মাসে দু- একটি করে সমবায় ও ঋনদান সমিতি লাপাত্তা হবার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছর ৮ টি সমবায় ও ঋন্দান সমিতি লাপাত্তা হয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। এতে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার।





























