
মো: জুয়েল রানা, স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ওমরপুর গ্রামের কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত প্রবাস ফেরত মো. স্বপন মিয়া (৩০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মৃত্যু বরণ করেন। নিহত স্বপন ওমরপুর গ্রামের মো. ছোবহান মিয়ার ছেলে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, গত ৩১অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টায় প্রবাসী স্বপনকে মাদক বিক্রেতার আখ্যা দিয়ে একই গ্রামের শান্তি মিয়ার ছেলে মো. আসিফের নেতৃত্বে রাহিম বাবু, দিপু, নাজমুল, রোকন, রাকিব ও সাইদুলসহ ২০/৩০ জনের একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ স্বপনকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে রেনু ভূইয়ার বাড়িতে নিয়ে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা স্বপনকে গ্রামের জাকির মিয়ার দোকানের সামনে নিয়ে এসে আবারও মারধর করলে ঐসময় স্বপন নিজেকে বাচাতে দৌড় দিলে হামলাকারীরা পিছে পিছে দৌড়ে গিয়ে বেদরক পিটিয়ে গুরতর আহত করে পুনরায় জাকির মিয়ার দোকানের সামনে এনে আহত স্বপনকে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা।
পরে স্বপনের স্বজনরা খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে এসে স্বপনকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ১২ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মৃত্যুর কোলে ডলে পরেন স্বপন।
এলাকাবাসী আরও জানায় স্বপনরা দুই ভাই চার বোন এদের মধ্যে স্বপন চতুর্থ। তার এক ছেলে সন্তান রয়েছে নাম মাহিন (৭) এবং তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা।
গ্রামবাসী আরও জানায় আসিফ কিশোর গ্যাংদের নিয়ে গ্রামে একটি স্বপ্নপূরণ নামে একটি সংগঠন করে। এই সংগঠনের নামে স্বপনকে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ দিয়ে বার বার চাঁদা চাইতেন আসিফ এবং দুই মাস পূর্বে স্বপনের নামে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে শালিসি বৈঠক হলে তখন ঘটনাটি মিথ্যা প্রমানিত হয়। তবে আসিফ ও দিপু এলাকার চিহ্নিত মাদক সেবনকারী এবং চাঁদাবাজ।
দোকানি জাকির মিয়া বলেন, রাত আনুমানিক সাড়ে দশটায় স্বপনকে মারতে মারতে আমার দোকানের সামনে নিয়ে আসে আসিফ, রাহিম বাবু, দিপু, নাজমুল, রোকন, রাকিব ও সাইদুলসহ ২০/৩০ জনের একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ। তিনি আরও বলেন,এখানে এনেও মারধর করে, একপর্যায়ে স্বপন দৌড় দিলে তারাও পিছে পিছে দৌড়ে গিয়ে মারধর করে গুরতর আহত করে আবার আমার দোকানের সামনে এনে রেখে চলে যার হামলাকারীরা।
নিহতের বড় বোন তাসলিমা আক্তার ও ছোট বোন জোহরা আক্তার বলেন, আমার ভাইকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে আসিফ, দিপু, রোকন, রহিম বাবু, সাইদুল ও নাজমুলসহ ২০/৩০ জনে মিলে আমার ভাইকে পিটিয়ে গুরতর আহত করে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে ভাইকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে ডাক্তার ঢাকা পাটায়। সেখানে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা যায়। আমরা ভাই হত্যার বিচার চাই।
এবিষয়ে তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ বলেন, ওমরপুর গ্রামে প্রবাস ফেরত স্বপন নামের এক ব্যাক্তিকে ১০/১২ দিন আগে একই গ্রামের কিছু লোক মারধর করে গুরতর আহত করেছে। আহত স্বপন গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে শুনেছি। হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে, আসামিদের ধরার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।





























