
সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান হাসান, জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী: নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় কাজী শরিফুল ইসলাম ওরফে শাকিল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া সাংবাদিকতা, চাঁদাবাজি, হুমকি ও তথ্য অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। তার কর্মকাণ্ডে বিব্রত ও ক্ষুব্ধ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক সমাজ, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরাও অভিযোগ করেছেন, শাকিলের মতো ভূঁইফোড় ব্যক্তিদের অপসাংবাদিকতার কারণে সাংবাদিকতা পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে উদ্দেশ করে “বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে” শিরোনামে পোস্ট দিয়ে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও তার পরিবারকে নিয়ে কটূ মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, ইউএনও তার অন্যায় দাবি পূরণ না করায় তিনি এমন অপপ্রচার চালান।
অভিযোগে জানা যায়, শাকিল কোনো স্বীকৃত টিভি, পত্রিকা কিংবা অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত নন। তিনি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়ে অপপ্রচার চালান এবং সামাজিকভাবে মানহানি ঘটান।
মনোহরদী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ বকুলসহ স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক শিল্পমন্ত্রী পুত্র মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদীর ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন শাকিল। পরবর্তীতে বিএনপির বলয়ে ঢোকার চেষ্টা ব্যর্থ হলে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও অপপ্রচার শুরু করেন তিনি।
চন্দনবাড়ী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আবু রায়হান ভূঁইয়া বলেন, “তিনি আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করেছেন, যা আমার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। একজন শিক্ষক হিসেবে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানহানিকর।”
মনোহরদী কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, “কলেজের কমিটিতে যুক্ত হতে না পারায় তিনি আমাকে এবং ইউএনওকে ফেসবুকে হুমকি দেন ও কুৎসা রটান।”
খিদিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আপন ভূঁইয়া বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। আবারও চাঁদা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার নামে অপপ্রচার চালান।”
মনোহরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও পৌর জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান নূর জানান, “তিনি আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করেছেন। মানুষের বিরুদ্ধে কাল্পনিক পোস্ট দিয়ে মানহানির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ই তার মূল লক্ষ্য।”
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “শাকিল মূলত আওয়ামী দোসর। এমন মানুষদের কারণেই সমাজে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে।”
সূত্র জানায়, শাকিলের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। ধানমন্ডি থানার মামলা নং ৪ (২ সেপ্টেম্বর ২০১৫), মনোহরদী থানার মামলা নং ৯/৭৯ (১২ এপ্রিল ২০২০), মামলা নং ৭/৭৬ (৮ আগস্ট ২০২২)–সহ আরও কয়েকটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
এমনকি জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন তার বিরুদ্ধে “প্রতারক” শিরোনামে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছিল।
এ বিষয়ে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, “বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





























