
মো: জুয়েল রানা, স্টাফ রিপোর্টার:
দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী কুমিল্লা তিতাস উপজেলার উলুকান্দি-কালাই গোবিন্দপুর সড়কের পাকাকরণ কাজ বন্ধ থাকায় উলুকান্দি, উত্তর ও দক্ষিণ শ্রী নারায়ণকান্দি এবং কালাই গোবিন্দপুরসহ ৬টি গ্রামের প্রায় ২০/২২ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকাকরণের জন্য সড়কটির মাটি বক্স কাটিং করে কিছু কিছু অংশে ইটের খোয়া ফেলে রেখেছে। এতে রাস্তায় পানি জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এবং কিছু অংশে মাটি ধসে পড়েছে। যানবাহন তো দূরের কথা হেঁটেই মানুষ চলাচল করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী
জানা যায়, তিতাস উপজেলার মাছিমপুর-আসমানিয়া সড়কের বাতাকান্দি বাজারের পূর্ব পাশের নির্মাণাধীন সেতুর পাশ থেকে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ উলুকান্দি-কালাই গোবিন্দপুর সড়কের ১২ শ' মিটার পাকাকরণ কাজের জন্য ২০২৩ সালে দরপত্র আহবান করা হয়েছিল। প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮১৪ টাকা। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। সড়ক পাকাকরণ প্রকল্প সমাপ্তের মেয়াদ নির্ধারণ ছিলো ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর। কাজটি পায় মেসার্স জিরু-২ ইনফিনিটি কোম্পানি। এই সড়কের ১০" ইঞ্চি উচ্চতায় ১২ শ' কিলোমিটার দীর্ঘ স্থানে বক্স কাটিং করে অনিশ্চিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। নির্মাণ কাজ গত ১০ মাস ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
তিতাস উপজেলার অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র বাতাকান্দি বাজার। এলাকার মানুষের জীবন জীবীকার অনেক উপাদান এই বাজারকে ঘিরেই। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করা কামরুল ইসলাম, হজরত আলী, রাসেল আহমেদ, প্রবাসী আবদুল লতিফ বলেন, কালাই গোবিন্দপুর, উলুকান্দি, উত্তর ও দক্ষিণ শ্রী নারায়ণকান্দি গ্রামের অধিকাংশ লোকের শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, ব্যবসা বাণিজ্য এবং কৃষিপণ্য কেনাবেচা সবই বাতাকান্দি বাজারকেন্দ্রিক। উলুকান্দি-কালাই গোবিন্দপুর সড়ক পাকাকরণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গাজীপুর হয়ে ৫ কিলোমিটার রাস্তা অতিরিক্ত ঘুরে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে বাতাকান্দি বাজারে মালামাল পরিবহণ করতে হচ্ছে।
এলজিইডি'র তিতাস উপজেলা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ঠিকাদার আবেদন করেছে। সিডিউল অনুযায়ী ঠিকাদারকে অবশ্যই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ফান্ডের কোন সমস্যা নেই। তবে গ্যাস সঞ্চালন লাইনের কাজের জন্য ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রী পরিবহণে নিতে মাঝে বেশ সমস্যা হয়েছিল। এখন দ্রুত এই সড়কের পাকাকরণ কাজ শেষ হবে। জনদুর্ভোগের সমাপ্তি হবে।





























