
আলমগীর হোসেন
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের উত্তর নলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ ও ৮ম শ্রেণির দুটি শ্রেণিকক্ষে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি আলু মজুদ করেছেন। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের ছুটির সময়ে তোফাজ্জল হোসেন শাহ নামের এক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি শ্রেণিকক্ষ দুটি তালাবদ্ধ করে সেখানে আলু সংরক্ষণ করেন। ছুটি শেষে বিদ্যালয় খোলার পরও আলুগুলো না সরানোয় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে বসতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন টিনশেডের দুটি কক্ষে মেঝে জুড়ে আলু রাখা হয়েছে। বারান্দাতেও রাখা রয়েছে বস্তাভর্তি আলু। শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চগুলো একপাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে, ফলে কক্ষগুলো ক্লাসের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে, আর অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী দৈনিক আলোকিত সকল পত্রিকাকে বলেন, “ঈদের ছুটি শেষে ক্লাস করতে এসেও শুধুমাত্র হাজিরা দিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। এমনিতেই পাঠ্যবই দেরিতে পেয়েছি, এখন শ্রেণিকক্ষের এই অবস্থায় আমাদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে।”
এবিষয়ে অভিযুক্ত তোফাজ্জল হোসেন শাহ দৈনিক আলোকিত সকল পত্রিকাকে বলেন, স্কুল বন্ধ থাকার জন্য আলু রাখছিলাম। দ্রুত আলু সরানোর ব্যবস্থা করতেছি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মহসিন আলী বলেন, “স্কুল বন্ধের সময় তিনি (প্রভাবশালী ব্যক্তি) শ্রেণিকক্ষে আলু রেখেছেন। তাকে একাধিকবার অনুরোধ করলেও এখনও আলু সরাননি। পুনরায় অনুরোধ জানাব, তাতেও কাজ না হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনজুরুল হক জানান, “ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে ইতোমধ্যেই আলু অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কারো গাফিলতি থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার মুঠোফোনে বলেন, “শ্রেণিকক্ষে আলু মজুদ করে পাঠদান ব্যাহত করাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একধরনের অপরাধ। দ্রুত শ্রেণিকক্ষ ক্লাস উপযোগী করতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভবিষ্যতে রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।



































