
সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান হাসান, জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী: নরসিংদীর চরাঞ্চল আলোকবালি উত্তরপাড়া কেরাসার মাজারে তিনদিনব্যাপী ওরসকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শুক্রবার শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে রবিবার পর্যন্ত। প্রায় ৮৩ বছর ধরে এ ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে এবারের আয়োজনকে ঘিরে উঠেছে জুয়ার আসরের অভিযোগ, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওরসের আড়ালে জুয়া খেলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। স্থানীয় সূত্র জানায়, আলোকবালি উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মো. মাইনউদ্দিনের উদ্যোগে এ বছর কেরাসার মাজারে ওরসের আয়োজন করা হয়। মাজার প্রাঙ্গণে বসেছে অস্থায়ী দোকানপাট, খাবারের স্টল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যার পর বাড়তে থাকে ভিড়। তবে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, মাজারসংলগ্ন এলাকায় ছামিয়ানা টানিয়ে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ‘ছয়গুটি’ নামের জুয়ার আসর বসছে। প্রতিটি খেলায় ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হচ্ছে। বাজিতে জিতলে দ্বিগুণ টাকা পাওয়ার লোভে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হচ্ছে বলে দাবি তাদের। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিরাতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হচ্ছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, আলোকবালি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ আলম চৌধুরী, নরসিংদী সদর থানা কৃষক দলের সদস্য সজল চৌধুরী, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাতেম তাই ও সদস্য সচিব মাসুদ আহমেদ রানার পরোক্ষ মদদে এ জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ধর্মীয় আয়োজনের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চললে তা আধ্যাত্মিক পরিবেশের পাশাপাশি তরুণ সমাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আরেক নারী অভিযোগ করে বলেন, ওরস শুরুর পর থেকে তার স্বামী মাছ বিক্রির উপার্জনের অর্থ জুয়ার আসরে হারাচ্ছেন, যার কারণে সংসারে অশান্তি বাড়ছে। ওরস আয়োজক কমিটির সদস্য মুন্না বলেন, “আমরা থানা থেকে অনুমতি নিয়ে ওরসের আয়োজন করেছি। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি জুয়ার আয়োজন করে থাকলে এর দায় আমাদের নয়।” এ বিষয়ে আলোকবালি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ আলম চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটি আলোকবালির নয়, অন্য এলাকার ঘটনা। “আমাদের এখানে কোনো জুয়ার আসর বসেনি এবং বিএনপির কেউ জড়িত নয়,” দাবি তার। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।





























