
চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তি দাবিতে বিক্ষোভে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাইফুল ইসলাম আলিফ নামের এক আইনজীবী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনা আরও অন্তত ২০ জনের মতো আহত হয়েছেন। নিহত আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আদালত ভবনের প্রবেশমুখে রঙ্গম কনভেনশন হলের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- রিগ্যান আচার্য্য শ্রীবাস দাশ, শারকু দাশ, ছোটন, সুজিত ঘোষ, উৎপল, এনামুল হকসহ অনেকে।
জানা গেছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আদালত কারাগারে পাঠালে সনাতনীরা আদালত চত্বরে প্রায় তিনঘণ্টা পুলিশের প্রিজনভ্যান আটকে রাখে। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে। এরপর তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে রঙ্গম কনভেনশন হলের সামনে অবস্থান নেয়। এরমধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অনুপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে গুরুত্বর আহত হন শিক্ষানবীশ আইনজীবী সাইফুল। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এতে অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাসালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের আদালত। এরপর এজলাসের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ভক্ত-অনুসারীরা। তখন প্রিজনভ্যান আটকে বিক্ষোভ চলছে সনাতনীদের।
মঙ্গলবার দুপুরে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম ৬ষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম জামিন নামঞ্জুরের এ আদেশ দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, আদালত ভবনের সামনে শত শত নারী-পুরুষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে বহন করা প্রিজনভ্যান আটকে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাদের এক দফা এক দাবি—চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তি চান। অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্যকে নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে
এদিকে, সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে হওয়া সহিংসতায় এক আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামের আইনজীবীরা।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) সব আদালতে এ কর্মসূচির পালনের ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম রাজ্জাক। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
অন্যদিক, চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া চার সাংবাদিকের মোটর সাইকেল ভাংচুরের নিন্দা জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে।
মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুরকে ঘিরে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনা চলাকালে চার ফটো সাংবাদিক আমাদের সময়ের আবু সাঈদ মোহাম্মদ তামান্না, দেশ রূপান্তরের আকমাল হোসেন, বিডিনিউজের সুমন বাবু ও সারাবাংলার শ্যামলনন্দীর পার্কিং করে রাখা মোটর সাইকেল ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি তপন চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, যে কোন ঘটনা কিংবা পরিস্থিতির প্রকৃত তথ্য, ছবি আর ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের মাঠে থাকতে হয়। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, সাংবাদিক ও তাঁদের ক্যামেরা কিংবা মোটর সাইকেলকে আক্রমণের টার্গেটে পরিণত করে একশ্রেণীর লোক। যা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্খিত। নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিক ও তাদের জিনিসপত্র যেন আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু না হয় এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।





























