
মোহাম্মদ হাসান আলী গোসাইরহাট (শরীয়তপুর)প্রতিনিধি।শরীয়তপুর গোসাইরহাটে এক দালালের খপ্পরে পড়ে প্রবাসে মানবতার জীবন-যাপন করছে ৯' যুবক।বর্তমানে ওই ৯ যুবক সৌদি আরবে আছেন বলে তাদের পরিবার জানিয়েছেন। অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ীর নাম আনোয়ার সরদার (৪৫)। সে উপজেলার আলাওলপুর ইউনিয়নের চর জালালপুর ইউনিয়নের মৃত কালিমুদ্দিনের পুত্র।এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন যুবকের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অনেক অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে ঐ ৯ যুবক সৌদিআরবে এবং দেশে তাদের পরিবার মানবতার জীবনযাপন করছে। এই বিষয়ে গোসাইরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার।ভুক্তভুগী ঐ ৯' যুবকের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার আলাওলপুর ইউনিয়নের চরজালালপুর এলাকার মকবলু মোল্লার ছেলে আব্দুল কাদের মোল্লার কাছ থেকে কনস্ট্রাকশনে ভাল বেতনে কাজের কথা বলে প্রায় ৫ লাখ টাকা নেয়। এরপর ৩/৪ মাস পর ভ্রমন ভিসা দিয়ে পাঠায়।আনোয়ার সরদারের চাহিদামত ঘটি বাটি সব বিক্রি করে এবং চড়া সুদে বিভিন্ন স্থান থেকে টাকা যোগাড় করে দেয়। চার মাস ধরে বিদেশ গেলেও কোন টাকা পাঠাতে পারছে না কাদের মোল্যা। প্রায় প্রতিদিন পাওনাদারেরা বাড়িতে হাজির হয়। পরিবার নেয়ে মানবতার জীবনযাপন করছে।অপরদিকে একই এলাকার ইদ্রিস হাওলাদারের ছেলে জাকির হাওলাদার ৫ লাখ টাকা দিয়ে সৌদি আরব গিয়ে কাজ না পেয়ে অনাহারে অর্ধাহারে কোন রকমে সৌদি আরবে আদম ব্যবসায়ী আনোয়ারের দিকে তাকিয়ে আছে জাকির।স্থানীয় অপর এক যুবক নাসির মোল্যার ছেলে ইসমাইল মোল্যার কাছে থেকে ৪ লাখ টাকা নিয়ে সৌদি আরব পাঠায় আনোয়ার। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ও সুদে টাকা জোগাড় করে সে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। বিদেশের মাটিতে ৬ মাস থাকলেও কোন কাজ জোটে নাই তার ভাগ্যে। পাওনাদাররা বাড়িতে ভিড় করায় ইসমাঈল মিয়ার স্ত্রী বাড়ি ছাড়া।ঐদিকে ইসমাইল মিয়া ৬ মাস যাবৎ কোন কাজ না পেয়ে অন্য প্রবাসিদের কাছ থেকে ধার দেনা করে চলছে। আনোয়ারকে কিছু বললেই বলে সামনে মাস থেকে কাজে দিবে।একই এলাকার ছুন্নু হাওলাদারের ছেলে ইউনূস হাওলদার, নান্নু হাওলাদারের ছেলেমাইনউদ্দিন হাওলাদার এছাড়াও পার্শবর্তী ডামুড্যা উপজেলার ওমর আলী সরদারে থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন অভিযুক্ত আনোয়ার সরদার।বিদেশ ফেরত প্রবাসী স্থানীয় সৈয়দ মোল্লা জানান আনোয়ার আমার এক ভাইকে কোম্পানিতে কাজ দেওয়ার কথা বলে ৫লাখ টাকা নিয়ে ৫/৬ মাস ঘুরিয়ে প্রবাসে পাঠায় আনোয়ার। সেখানে ১৫ দিন পরে বলছেন আকামা দিবে এরপর ৬ মাস পপার হলেও তাকে কোনো কাজ দিতে পারেনি। মূলত আনোয়ার নিজেরা একটি একটি অফিস খুলে বসে তারা সৌদি ভিসা কোম্পানিকে কোনো টাকা দেয়নায় তারাই টাকা নিয়েছেসাপ্লাই ভিসা দেওয়ায় কোন কাজ নাই তার। মাঝে মধ্যে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে। দেশে গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রী ও কন্যা সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন পার করছে। ভাল কাজ অথবা দেশে ফেরত আসতে চান হেমায়েত। সামিউল নামের অপর এক যুবকের কাছ থেকে কোম্পানির ভিসা দেওয়ার কথা থাকলেও তাকেও সাপ্লাই ভিসা দেওয়া হয়। বর্তমানে সামিউল ও তার পরিবার কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।এবিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার সরদারের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী সৌদিতে তাদের কাজের ব্যবস্থা করার জনজ্য চেষ্টা করছেন।অভিযুক্ত আনোয়ারের মুঠোফোনে কল দিলেও তার মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্ত নেয়া সম্ভব হয়নি।গোসাইরহাট থানার পুলিশ উপ পরিদর্শক (এসআই) সজিবুল জানান, অভিযোগ স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।





























